যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কী আবারো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে ফিরলো! এমন আতঙ্কজনক প্রশ্ন সবার মধ্যে। কারণ, গত কয়েকদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে যেভাবে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে, তা সেই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সর্বশেষ হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুটি জাতীয় তেলবাহী ট্যাংকারে ইরান ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে এক ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। আরও আটজন আহত হয়েছেন। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানে বোমা হামলা চালিয়েছে। অনলাইন আল জাজিরা যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা সম্পর্কে ব্রেকিং নিউজ দিলেও কোথায় হামলা হয়েছে, সে সম্পর্কে পরিষ্কার করেনি।
ওদিকে হরমুজ প্রণালিকে করমুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে এখন তিনি সেখান থেকে শুল্ক নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা ও ট্রাম্পের এমন ঘোষণার পর উত্তেজনার বড় ধরনের নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় এবং দু’জন ইউক্রেনীয় নাগরিক। এর মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। ওমানের আঞ্চলিক জলসীমায় হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ দিকের নৌপথ দিয়ে যাওয়ার সময় মোমবাসা ও আল বাহিয়াহ নামের দুটি ট্যাংকারে ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এক বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই উত্তেজনার জবাব দেয়ার এবং দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়ার পূর্ণ অধিকার সংযুক্ত আরব আমিরাত সংরক্ষণ করে। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে দেশটি এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্টের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দিতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক এই হামলার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। শান্তিকালীন সময়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন হতো। উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮১ দশমিক ৯২ ডলারে পৌঁছেছে। যদিও যুদ্ধ চলাকালে প্রায় ১২০ ডলার পর্যন্ত ওঠা দামের তুলনায় এটি কম, তবুও এই বৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানকে লক্ষ্য করে মার্কিন বাহিনী নতুন করে সামরিক হামলা শুরু করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, এই হামলাগুলো ইরানের বাহিনীর ওপর বড় ধরনের মূল্য চাপিয়ে দেবে এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরীহ বেসামরিক মানুষ ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা দুর্বল করে দেবে। ঘোষণার কিছুক্ষণ পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে আরেকটি বড় হামলা বলে উল্লেখ করেন। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে আঘাত হানছি। এটি চলতেই থাকবে, এরপর কী হয় দেখা যাবে। আমরা তাদের সব আক্রমণাত্মক সক্ষমতা ধ্বংস করে দিচ্ছি এবং প্রণালিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছি। আমরা আবার অবরোধ কার্যকর করছি।
এ সময় ট্রাম্প তার প্রশাসনের অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়েও নতুন তথ্য দেন। আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে কোনো ফি নেয়া হবে না বলে ইঙ্গিত দিলেও, এখন তিনি জানান, জাহাজ চলাচলের জন্য টোল আদায় করা হবে। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সমৃদ্ধ একটি অঞ্চলকে সুরক্ষা দিচ্ছি। এর জন্য আমাদের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। তাই আমরা যে সুরক্ষা দিচ্ছি, তার বিনিময়ে অর্থ ফেরত পাব।
