ট্রাম্পের নিয়মেই খেলছে ইরান

সিএনএনের বিশ্লেষণ

ট্রাম্পের নিয়মেই খেলছে ইরান

ফন্ট সাইজ:

ইরান যেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে তার নিজের খেলাতেই ঘায়েল করছে। সোমবার ট্রাম্প অভিযোগ করেন, কোনো চুক্তি মেনে চলার ক্ষেত্রে ইরানের ওপর ভরসা করা যায় না। অথচ তিনি নিজেই ইতিপূর্বে যুদ্ধ থামানোর একটি সমঝোতা স্মারক ভেঙেছেন। ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অভিযোগ করে বলেন, এটি একটি চূড়ান্ত চুক্তি ছিল, তারা তা ভেঙেছে, তারা সবসময় চুক্তি ভাঙে। আন্তর্জাতিক একাধিক চুক্তি থেকে নিজের বেরিয়ে যাওয়ার অভ্যাসের পরও এমন মন্তব্যে ট্রাম্পের নিজের আত্মবিরোধী রূপ ফুটে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ওবামা আমলের ইরান পারমাণবিক চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তের ফলেই যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান এই সংকট তৈরি হয়েছে। পরবর্তীতে ট্রাম্প যখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর নিজস্ব টোল বা কর আরোপের হুমকি দেন, তখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক মাধ্যম এক্সে উপহাস করে লেখেন, ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে টোল নেয়ার বিষয়ে তেহরানের অবস্থানকে বৈধতা দিয়েছেন। তবে ২০ ভাগ টোল অবশ্যই অনেক বেশি, আমরা ন্যায্য ফি রাখব। ট্রাম্প এখন বুঝতে পারছেন যে ইরান বেশ শক্ত দরকষাকষি করছে এবং সমঝোতা স্মারকের ভাষা তারা নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করছে। অথচ ট্রাম্প যে যুদ্ধকে ইতিমধ্যে জয় করেছেন বলে বারবার দাবি করেছিলেন, তা কেন আবার শুরু হলো তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা তিনি মার্কিন নাগরিকদের দিতে পারেননি।

সোমবার এক রেডিও শোতে ট্রাম্প সুর বদলে দাবি করেন, এই চুক্তি ছিল একটি পরীক্ষা যাতে ইরান ব্যর্থ হয়েছে এবং এর কোনো মূল্য নেই। সমঝোতা স্মারকটি ভেঙে যাওয়ার মূল কারণ ছিল হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা, যা ইরানের জন্য এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় বিজয়। তেহরান তাদের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমিত ক্ষমতার চতুর প্রয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তিকে কৌশলে পরাস্ত করছে। মূলত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে ট্রাম্পের অনভিজ্ঞ রিয়েল এস্টেট আলোচক দলের তৈরি করা শিথিল ভাষার সুযোগ নিয়ে ইরান এই বাড়তি সুবিধা লুফে নিয়েছে।

এই চুক্তি অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক চুক্তি সম্পন্ন করার সময়সীমা ছিল চরম অবাস্তব। বর্তমানে প্রতিদিনের পাল্টাপাল্টি হামলায় পরিস্থিতি যেকোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও, পুরোপুরি বড় ধরনের যুদ্ধ এখনও এড়ানো সম্ভব। কারণ ট্রাম্প ইরানের তেল উৎপাদন কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে আক্রমণ করার মতো বড় ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি নিতে রাজি নন।

এছাড়া যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভুল হামলায় ইরানের একটি স্কুলে ১৬৮টি শিশু ও ১৪ জন শিক্ষক নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলেও, ট্রাম্প এখনও সেতু বা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো বেসামরিক অবকাঠামোতে বড় ধরনের হামলা চালাননি। ইরানও মার্কিন ঘাঁটি বা প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর প্রতিশোধমূলক হামলার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সীমা বজায় রাখছে। যুদ্ধ এখনই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। তবে প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ থেকে ট্রাম্প কীভাবে বেরিয়ে আসবেন সেই প্রশ্নের কোনো জবাব এখনও তার কাছে নেই।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন