বৃষ্টি-দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

বৃষ্টি-দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

ফন্ট সাইজ:

কয়েক দিন ধরেই দেশ জুড়ে চলছে প্রবল বৃষ্টি। ফলে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা, বন্যা। সেইসঙ্গে গতকাল সকাল থেকেই বৃষ্টির কারণে চলমান এইচএসসি-সমমান পরীক্ষার্থীদের বিপাকে ফেলে। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে, পানি মাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছেন। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী-অভিভাবকসহ অনেকে। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন কেন্দ্রের তথ্য সংগ্রহ করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

গতকাল পরীক্ষা দিতে যাওয়ার বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন নেটিজেনরা। রাজধানীসহ অনেক এলাকায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে যেতে হয়েছে কেন্দ্রে। অনেক পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে বাসা থেকে বের হন। কেউ বৃষ্টিতে ভিজেই কেন্দ্রে পৌঁছান, আবার অনেক অভিভাবক ছাতা ধরে সন্তানদের নিয়ে কষ্ট করে কেন্দ্রে যান।

তবে কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ কয়েকটি জেলার পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও কোমরসমান পানি মাড়িয়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে পরীক্ষার্থীদের। অনেককে নৌকা, ভ্যান ও অন্যান্য স্থানীয় যানবাহনের সহায়তা নিতে হয়েছে। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার কয়েকটি পরীক্ষা কেন্দ্রে বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ায় পরীক্ষার্থীদের চলাচল ব্যাহত হয়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে শত শত পরিবার আটকা পড়ে।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে শুধু যাতায়াতই নয়, পরীক্ষার প্রস্তুতিও ব্যাহত হয়েছে বলে জানান অনেক পরীক্ষার্থী। কোথাও বিদ্যুৎ বিভ্রাট, কোথাও জলাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিক পড়াশোনা সম্ভব হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ নেটিজেনদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোর ক্যাপশন ও কমেন্ট বক্সে ব্যাপক সমালোচনামূলক মন্তব্য করছেন নেটিজেনরা। অনেকেই দুর্যোগপূর্ণ এলাকাগুলোতে অন্তত পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত বা বিকল্প ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। প্রবল বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলার পরিস্থিতি ভয়াবহ। এই পাঁচ জেলায় ১৬ই জুলাই পর্যন্ত চলমান এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা থেকে জানান, প্রবল বৃষ্টির কারণে কেউ হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে, আবার কেউ নৌকায় করে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করেছেন। সোমবার কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এমন চিত্রই দেখা গেছে। সকাল ১০টার দিকে সরজমিন দেখা যায়, ভারী বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতায় তলিয়ে আছে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের পুরো আঙিনা। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা শুরুর পরও পানি মাড়িয়ে কেন্দ্রে ঢুকতে দেখা যায়।

পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগের খবর পেয়ে দ্রুত কেন্দ্রে যান- কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা (টিপু), ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন, কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পরে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে কয়েকটি প্লাস্টিকের নৌকা ও ভ্যানের ব্যবস্থা করা হয়। সেগুলোয় করে অনেক পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হয়। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে নৌকায় চড়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন সাজিদ হোসেন নামের এক পরীক্ষার্থী। তিনি বলেন, ভোর থেকেই প্রচণ্ড বৃষ্টি। আমাদের বাসা শহরতলীর দৌলতপুর এলাকায়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে কোনো যানবাহন পাইনি। শহরের প্রায় সব রাস্তায় পানি। পরে হাঁটাসহ অনেক কষ্টে কেন্দ্রের সামনে এসে দেখি ভয়াবহ অবস্থা। আমার কোমরের উপর পানি। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর নৌকায় করে কেন্দ্রে যাচ্ছি। আজকের দুর্ভোগের কথা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। মাহমুদা আক্তার নামের আরেক পরীক্ষার্থী বলেন, বাবার মোটরসাইকেলে করে অনেক কষ্টে কেন্দ্রের সামনে এসেছি। এখানে এসে এমন পরিস্থিতিতে পড়বো চিন্তাও করিনি। পুরো কেন্দ্রই পানিতে ভাসছে। পরীক্ষা কেমন হবে, আল্লাহ্‌ ভালো জানেন। জলাবদ্ধতার বিষয়ে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম বলেন, অন্য পরীক্ষার সময় নিচতলার কয়েকটি কক্ষে শিক্ষার্থীদের আসন ছিল। কিন্তু আজকে জলাবদ্ধতার কারণে কোনো ভবনের নিচতলায় পরীক্ষা হয়নি।

কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন বলেন, অন্য কোনো কেন্দ্রে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্র এলাকাটি নিচু হওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি দেখেছি। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরীক্ষার্থীদের কিছুটা বাড়তি সময় দেবেন, যেন তাদের পরীক্ষার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা না হয়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন