রাজধানীসহ দেশ জুড়ে টানা বৃষ্টিতে হঠাৎ বেড়ে গেল সবজির দাম। কাঁচাবাজারে সবজির দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সেইসঙ্গে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৬০ টাকা। এ ছাড়া সপ্তাহ তিনেক চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগিও। সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এই চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, অতিভারী বৃষ্টির কারণে সবজিবাহী ট্রাক আসতে দেরি হচ্ছে। অনেক আড়তে পণ্য কম আসায় পাইকারি বাজারেই দাম বেড়ে গেছে। তাছাড়া, বৃষ্টিতে অনেক ফসলই নষ্ট হয়ে যায়। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যায়। এতে বেড়ে যায় দাম।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে ?কয়েকদিন আগেও বিভিন্ন সবজি ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে কেনা গেলেও এখন কিনতে হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে। পটোল, ঢেঁড়স ও পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। এই তিন সবজি ছাড়া ?বেগুন ও করলা মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি, যা দু’দিন আগেও ৫০-৬০ টাকা ছিল। ?ঝিঙা, চিচিঙা কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। আর বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। বাজারভেদে তা ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। যা আগে ৪০ থেকে ৬০ টাকা কম ছিল। তাছাড়া, এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়। দেশি ধনেপাতা ২৫০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ১৮০ কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, চাল কুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে। আঁটিপ্রতি লাল শাক ১৫ থেকে ২০ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা, পুঁইশাক ৪০ টাকা এবং দুই আঁটি ডাঁটা শাক ও কলমি শাক ৩০ ও ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ওদিকে গত সপ্তাহের মতোই সোনালি কক মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা এবং সোনালি হাইব্রিড মুরগি ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১৩০০ টাকা কেজি দরে।
স্বস্তি নেই মাছের বাজারেও। বিক্রেতাদের দাবি, সরবরাহ কমে যাওয়ায় গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। বাজারে সরবরাহ ঘাটতি থাকায় প্রতি কেজিতে মাছের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বড় তেলাপিয়া ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, ছোট তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০ টাকা, রুই সাইজ ভেদে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙাশ ২০০ টাকা, কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া অন্যান্য মাছের মধ্যে টেংরা ও শিং ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কাওরান বাজারের সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ আলী বলেন, বৃষ্টির কারণে সবজির সরবরাহ কম। এ কারণে দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতি কেজি সবজি প্রকারভেদে ১৫ থেকে ২০ টাকা করে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। একই বাজারের বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, সবজির দাম দীর্ঘদিন ধরেই অল্প দামেই বিক্রি করে আসছি। দীর্ঘদিন বৃষ্টি ছিল না। সরবরাহও পর্যাপ্ত ছিল। কিন্তু হঠাৎ অতিবৃষ্টিতে বিক্রেতারা বেকায়দায় পড়ে গেছে।
মগবাজারের মুরগি ব্যবসায়ী মো. মঈনুদ্দিন বলেন, চাহিদামতো মুরগি পাওয়া যাচ্ছে না। যে পরিমাণ মুরগি ঢুকছে ঢাকায়, তার বেশি চাহিদা আছে। তাছাড়া ঈদের পর পর মুরগির দাম অনেক কম ছিল, ব্যবসায়ীরা লোকশানে বিক্রি করেছে। অতিবৃষ্টির কারণে আরও বাড়তে পারে দাম।
বাজার করতে আসা জাহিদ হোসেন বলেন, ব্যবসায়ীরা একটু অজুহাত পেলেই দাম বাড়িয়ে দেয়। সব সবজির দাম বেড়ে গিয়েছে। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি কিনেছি ১৭০ টাকা কেজিতে কিন্তু আজ ১৯০ টাকা কেজি দরে নিতে হয়েছে। মাছের দামও কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা করে বেড়েছে।
