আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিনে মুক্তি দেয়ার প্রতিবাদে বিচারকের উপস্থিতিতে এজলাস কক্ষে হট্টগোল, ভাঙচুরের ঘটনায় গতকাল আদালত চত্বরে টানটান উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিচারকরা এজলাস থেকে বেরিয়ে যান। বাইরে বিক্ষোভ করেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী আইনজীবী সমিতির সভাপতি, বিএনপি নেতা সাদিকুর রহমান লিংকনকে আটক করে। আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করে। বিকালে ১২ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। এতে আসামি সবাই বিএনপিপন্থি আইনজীবী। এ ঘটনায় বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আদালত বর্জনের ডাক দিয়েছে।
জানা গেছে, বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালত থেকে সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের অন্তত অর্ধডজন শীর্ষস্থানীয় নেতার জামিন অযোগ্য মামলায় জামিন দেয়া হয়। সোমবার একই আদালত থেকে একটি আলোচিত মামলায় জামিনে মুক্তি পান বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দুইবারের সাবেক এমপি তালুকদার মো. ইউনুস। শীর্র্ষস্থানীয় নেতা ইউনুস জামিনে মুক্তি প্রাপ্তির পরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা। প্রতিবাদে তারা মঙ্গলবার আদালত বর্জন করেন এবং বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের এজলাস কক্ষে প্রবেশ করে হট্টগোল এবং চেয়ার ভাঙচুর করেন। একজন বিচারকের সামনে এ ধরনের ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
বুধবার আদালতের এজলাস থেকে বেরিয়ে যান বিচারকরা। বাইরে দুই বিচারকের প্রত্যাহারের দাবিতে মিছিল করতে থাকেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। এ ঘটনায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ছুটে আসে র্যাব, পুলিশ ও যৌথ বাহিনী। একপর্যায়ে তারা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে আটক করে এবং সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আদালতে উপস্থাপন করা হলে বিচারক তাকে হাজতে পাঠিয়ে দেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বারের সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে হাজতে পাঠানোর খবর সংক্ষুব্ধ করে তোলে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের। এই ঘটনায় বুধবার সকাল থেকেই তারা আদালত বর্জন করাসহ অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারকের অপসারণ দাবি করেন। পাশাপাশি সভাপতির মুক্তির দাবিতে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তখন সাদিকুর রহমান লিংকনকে আদালত ভবনের বাইরে নিতে পুলিশ সক্রিয় ছিল। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। নেতাকে মুক্ত করতে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের বিক্ষোভে আদালত চত্বরের পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেনাবাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য সেখানে অবস্থান নেন। এবং পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে কাজ করেন। বলা যায়, সেনাবাহিনী-পুলিশ এবং র্যাব আদালত কম্পাউন্ডে এক ধরনের বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে। কিন্তু বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের বিক্ষোভ প্রতিবাদের কারণে সাদিকুর রহমানকে কিছুতেই আদালতের হাজতখানা থেকে বের করা যাচ্ছিল না। বিকাল ৫টার দিকে আদালত প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপি নেতাকে হাজতখানা থেকে বের করে কারাগারে প্রেরণ করে।
সন্ধ্যায় ১২ জন আইনজীবীকে আসামি করে জননিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের হয়। মামলার বাদী বরিশালের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজীব মজুমদার। আসামিরা হলেন- বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মির্জা রিয়াজুল ইসলাম, বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি আবুল কালাম আজাদ, মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিন পান্না, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মহসিন মন্টু, মিজানুর রহমান, আব্দুল মালেক, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এপিপি সাঈদ চৌধুরী, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বাবলু, মহানগর দায়রা জজ আদালতের এপিপি ও বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি তারেক আল ইমরান, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ ইমন ও বসিরউদ্দিন সবুজ। এদিকে আইনজীবী সভাপতিকে কারাগারে প্রেরণ এবং মামলা দায়েরের ঘটনায় আদালত বর্জনের ডাক দিয়েছে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। একই সঙ্গে তারা দুজন বিচারকের প্রত্যাহার দাবি করেছেন।

লিমা
৪ মাস আগেবুঝতেই পারছেন আওয়ামী সন্ত্রাসী রা কোন অবস্থানে?