জর্ডানের পর কুয়েত-বাহরাইন, ইরানের হামলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ

জর্ডানের পর কুয়েত-বাহরাইন, ইরানের হামলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ

ফন্ট সাইজ:

বাহরাইন এবং কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে বড় ধরণের হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ডস করপস (আইআরজিসি) এবং দেশটির সেনাবাহিনী। এর আগে তারা জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাবে নিজেদের চালানো এ আক্রমণকে ‘চোখের বদলে চোখ’ অভিযান হিসেবে অভিহিত করেছে তেহরান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। আইআরজিসি তাদের এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রতিশোধমূলক অভিযানের দ্বিতীয় দফায় বাহরাইনের ‘শেখ ঈসা বিমান ঘাঁটি’-কে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

সেখানে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি ড্রোন কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টার, হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র এবং একটি পি-৮ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গারে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে। উল্লেখ্য, বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর অবস্থিত হওয়ায় সেখানে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর পরপরই অভিযানের তৃতীয় দফায় কুয়েতের ‘আলী আল-সালেম’ এবং ‘আহমেদ আল-জাবের’ বিমান ঘাঁটিতে বিধ্বংসী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। আইআরজিসির দাবি, আলী আল-সালেম ঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংক ও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আহমেদ আল-জাবের ঘাঁটির একটি কৌশলগত রাডার সিস্টেম তারা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। একই সাথে ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে কুয়েতে মার্কিন বাহিনীর বাঙ্কার, মিসাইল সিস্টেম ও লজিস্টিকস শেল্টার লক্ষ্য করে তাদের ‘বিধ্বংসী ড্রোন’ হামলা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

ইরানি সামরিক বাহিনী এই অঞ্চলে মার্কিন হামলাকে জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতিমালার ‘নগ্ন লঙ্ঘন’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে স্পষ্ট করেছে যে, হরমুজ প্রণালিতে বহিরাগত কোনো শক্তির সামরিক হস্তক্ষেপ তারা বরদাশ করবে না এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা ব্যবহার করবে। এর আগে প্রথম দফার অভিযানে জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল আইআরজিসি, যার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিয়ন্ত্রিত ও ভয়াবহ সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন