বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে আগামী বুধবার মুখোমুখি হচ্ছে দুই পরাশক্তি ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। তবে মাঠের লড়াইয়ের আগেই মাঠের বাইরে ছড়াতে শুরু করেছে উত্তেজনার বারুদ। আটলান্টায় দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে ইতোমধ্যেই হাতাহাতি ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে, যা মার্কিন পুলিশের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এখন এই ম্যাচটিকে একটি ‘লজিস্টিক নাইটেমেয়ার’ বা বড় ধরনের কৌশলগত বিপর্যয় হিসেবে দেখছে।
ঐতিহাসিক ফকল্যান্ড যুদ্ধ এবং ১৯৮৬ বিশ্বকাপের দিয়েগো ম্যারাডোনার সেই কুখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’- দুই দেশের বৈরিতার এই দীর্ঘ ইতিহাস মাথায় রেখেই সাজানো হচ্ছে নিরাপত্তা বলয়। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, গ্যালারিতে কঠোর বিভাজন না থাকায় দুই দলের মারমুখী সমর্থকদের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে।
ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দুই পক্ষের হাতাহাতি ও মারামারির দৃশ্য দেখা গেছে। তবে বৃটিশ গণমাধ্যমদের দাবী, টুর্নামেন্টজুড়ে ইংলিশ সমর্থকদের আচরণ এখন পর্যন্ত বেশ প্রশংসনীয় ছিল। যুক্তরাজ্য ফুটবল পুলিশিং ইউনিটের একটি বিশেষ দল বর্তমানে আটলান্টায় অবস্থান করছে এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
এদিকে, ফ্লোরিডাসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশাল সংখ্যক আর্জেন্টাইন প্রবাসীর বসবাস থাকায় আটলান্টায় আকাশি-নীল সমর্থকদের ঢল নামবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্যালারিতে দুই দলেরই সমান ৫০-৫০ সমর্থক উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
আটলান্টা পুলিশ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমে বলেন, ‘আমরা দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত। স্টেডিয়ামের ভেতরে এবং বাইরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে আমরা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। আমাদের লক্ষ্য যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি শুরুতেই নিয়ন্ত্রণে আনা।’
গত ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে জয়ের পর কেবল চারজন সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়, যা বড় কোনো বিশৃঙ্খলার ইঙ্গিত দেয় না। তবে চিরবৈরী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ম্যাচে আবেগ ও উত্তেজনার পারদ থাকবে অন্য স্তরে। মাঠের রেফারিদের পাশাপাশি এখন আটলান্টার পুলিশ বাহিনীর জন্যও এটি এক চরম অগ্নিপরীক্ষা।
