তারকাদের নিয়ে কমবেশি সবার কৌতুহল থাকে। কারো কারো কৌতুহল গড়ায় আরো গভীরে। তারকাদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় কাটানোর কল্পনায় মেতে ওঠেন। বিখ্যাত তারকার সঙ্গে এমন কাল্পনিক সম্পর্ক বাস্তবিক সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্কে কেমন প্রভাব ফেলে? আপনার সঙ্গীর সাথে কোনো বিখ্যাত তারকাকে নিয়ে আপনার ভালো লাগার কথা শেয়ার করার পর দৈবৎ কোনোদিন সেই মহাতারকার সাথে দেখা হয়ে গেলে তার সাথে রাত কাটানোর একটি অলিখিত অনুমতি বা ‘হল পাস’ দেয়া বিষয়টি কি শুধুই নিখাদ মজা? নাকি এটি হতে পারে সম্পর্কের বড় কোনো বিপর্যয়ের পূর্বাভাস? সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া একটি নতুন কমেডি সিনেমা ‘গেইল ডট্রি অ্যান্ড দ্য সেলিব্রেটি সেক্স পাস’ এ এই বিষয়টিকেই বেশ মজার ছলে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সিনেমাটির পরিচালক এবং সহ-লেখক ডেভিড ওয়েন বলেন, আমরা ভেবেছিলাম এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে দম্পতিরা কেবল মজাই করে, বাস্তবে কখনো কিছু করে না। আমার মনে হয় না কেউ এটিকে গুরুত্ব সহকারে নেয়। তবে আমাদের সিনেমার মূল ভাবনাটি হলো, যদি তারা সত্যিই এটি করে বসে, তবে কী ঘটবে?
সিনেমার গল্পে যখন ফ্যান্টাসিই বাস্তব: গত জানুয়ারিতে সানড্যান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে দারুণ প্রশংসা পাওয়া এই সিনেমায় মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন জোয়ি ডয়েচ (গেইল ডট্রি)। গল্পে দেখা যায়, বিয়ের ঠিক আগে গেইল তার দীর্ঘদিনের প্রেমিক টমকে (মাইকেল ক্যাসিডি) বিখ্যাত অভিনেত্রী জেনিফার অ্যানিস্টনের (যিনি নিজেই নিজের চরিত্রে অভিনয় করেছেন) সাথে আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলে। মজার বিষয় হলো, এর ঠিক কিছুক্ষণ আগেই এই জুটি জেনিফার অ্যানিস্টনের নাম তাদের ‘সেলিব্রেটি সেক্স পাস’ তালিকায় রাখা নিয়ে রসিকতা করেছিল। কিন্তু ফ্যান্টাসি যখন বাস্তবে রূপ নেয়, তখন গেইলের পায়ের তলার মাটি সরে যায়। সে কান্নায় ভেঙে পড়ে বলে, আমি ভেবেছিলাম এটা একটা এমনি এমনি ছিল! ‘ফ্রেন্ডস’ সিরিয়ালের র্যাচেলের সাথে বিছানায় যাওয়ার লাইসেন্স নয়! এরপর সম্পর্কের সমতা ফেরাতে গেইল লস অ্যানজেলেসে পাড়ি জমায় তার নিজের ক্রাশ ‘ম্যাড মেন’ তারকা জন হ্যামের খোঁজে।
সিরিজ সিনেমায় ‘সেলিব্রেটি হল পাস’ : ‘হল পাস’ সিনেমায় জেনিফার অ্যানিস্টনের উপস্থিতি বেশ প্রাসঙ্গিক। কারণ, ১৯৯৬ সালে তার জনপ্রিয় সিটকম ‘ফ্রেন্ডস’-এর একটি পর্বেই এই ‘সেলিব্রেটি হল পাস’-এর ধারণাটি প্রথম ব্যাপক পপ কালচার জনপ্রিয়তা পায়। সেই পর্বে সিরিজটির দুটি চরিত্র রস টেলর এবং র্যাচেল গ্রীন আলোচনা করেছিল যে সম্পর্কের সীমানার বাইরে গিয়ে তারা কোন ৫ জন সেলিব্রেটির সাথে রাত কাটানোর ফ্রি-পাস পেতে পারে। পরবর্তীতে ২০১১ সালে ফ্যারেলি ব্রাদার্সের ‘হল পাস’ সিনেমাতেও এই ধারণাকে কেন্দ্র করে গল্প সাজানো হয়েছিল।
বাস্তবতা বনাম ফ্যান্টাসি: সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা: বৃটেনের ‘ডেইলি স্টার’ পত্রিকার একটি জরিপ অনুযায়ী, প্রায় এক-চতুর্থাংশ দম্পতি স্বীকার করেছেন যে তাদের পার্টনারের সাথে এমন একটি ‘শর্তহীন’ বোঝাপড়া বা ফ্যান্টাসি তালিকা রয়েছে। অর্ধেকেরও বেশি মানুষ মনে করেন, সেলিব্রেটি ক্রাশ নিয়ে আলোচনা করা একটি সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ। তবে সিনেমাটি যতই হাসির হোক না কেন, সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে বাস্তব জীবনে এই ফ্যান্টাসি নিয়ে খেলা করা আগুনের সাথে খেলার শামিল। দম্পতিদের থেরাপি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘গটম্যান ইনস্টিটিউট’-এর গবেষণা পরিচালক ক্যারি কোল বলেন, আমি মনে করি এটি একটি অত্যন্ত খারাপ আইডিয়া। মানুষ এটি নিয়ে আলোচনা করতেই পারে। তবে এর কল্পনা আর বাস্তবতার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে। কোল তার কর্মজীবনের একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, এক দম্পতি তাদের সম্পর্কের বাইরে গিয়ে একজনের ফ্যান্টাসির মানুষের সাথে রাত কাটানোর অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি যখন বাস্তবে ঘটল, তখন সম্পর্কের সমস্ত আবেগ ধূলিসাৎ হয়ে গেল। এটি তাদের বিয়ের প্রতিশ্রুতির চরম লঙ্ঘন মনে হয়েছিল। তখন পার্টনারের অনুভূতি ছিল ‘আমি রাজী হয়েছিলাম ঠিকই, কিন্তু ভাবিনি এটা সত্যিই ঘটে যাবে!’ নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক আলেকজান্দ্রা সলোমন অবশ্য কিছুটা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছেন।
তার মতে, যদি সম্পর্কের মধ্যে পর্যাপ্ত ‘মানসিক নিরাপত্তা ও বিশ্বাস’ থাকে, তবে এই ধরণের ফ্যান্টাসি নিয়ে আলোচনা সম্পর্ককে আরও রোমাঞ্চকর বা আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। তিনি যোগ করেন, প্রতিবেশীর বদলে কোনো সেলিব্রেটিকে নিয়ে ফ্যান্টাসি তৈরি করার সুবিধা হলো এতে একটি ‘নিরাপদ দূরত্ব’ বজায় থাকে, কারণ বাস্তবে সেই তারকার সাথে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। তবে সিনেমার পরিচালক ডেভিড ওয়েনের পরামর্শ বেশ সোজাসাপ্টা। বাস্তবে আপনার সঙ্গীকে এমন কোনো ‘পাস’ দিতে যাবেন না যদি না আপনি এর ভয়াবহ পরিণতি সামলাতে প্রস্তুত থাকেন।
