ঢাকা মেডিকেল কলেজ ২০ বা ২৫ বছর পর দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা শিক্ষা কেন্দ্র হবেÑ এমন প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করলেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুবাইদা রহমান। শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের আয়োজনে ডা. শামসুল আলম খান মিলন মিলনায়তনে কলেজটির ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজ ডে’র অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান এই কলেজের ৪৩তম ব্যাচের ছাত্রী ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে তার আগমনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি হয়।
জুবাইদা রহমান বলেন, আগামী ২০ বা ২৫ বছর পর আমরা ঢাকা মেডিকেল কলেজকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা শিক্ষা গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে দেখতে চাই। আর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আগামী অধ্যায়টি শুধু অতীতের গৌরবের ধারাবাহিকতা নয়। এটি হবে নতুন উদ্ভাবন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, গবেষণায় উৎকর্ষ এবং মানবিক নেতৃত্বের এক নতুন অধ্যায়। আজ আমরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছি। কর্মক্ষেত্র ভিন্ন কিন্তু আমাদের পরিচয়ের শিকড় এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
তিনি বলেন, আমরা চাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হোক একটি সেন্টার অব এক্সিলেন্স অ্যান্ড কমপ্যাশন ফর পেশেন্টস। একটি আশ্বস্ত করার বাক্য একটি ওষুধের মতো কাজ করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভিত্তি জ্ঞান হলেও চিকিৎসা পেশার প্রকৃত ভিত্তি মানবিকতা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের কৃতী শিক্ষার্থী চিকিৎসক জুবাইদা রহমান বলেন, এখন সময় ও সুযোগ এসেছে অ্যালামনাইকে শুধু স্মৃতির বন্ধনে নয়, দায়িত্বের বন্ধনে যুক্ত থাকতে হবে। একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত শক্তি তার অবকাঠামোতে, তার মানুষের মধ্যে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার মেধা, তার মূল্যবোধ এবং তার মানুষিকতার মধ্যে। প্রতিযোগিতার মধ্যেও সহযোগিতা সম্পদ। চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রতিটি সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে একজন মানুষ, একটি পরিবার-জীবন।
বক্তব্যের শুরুতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে জুবাইদা রহমান তার বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, বহুদিন ধরে একটি আর্তনাদ আমার কানে ধ্বনিত হয়, সেই আর্তনাদ একজন রোগীর পরিবারের সদস্যের। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ায় সুষ্ঠু ডায়াগনসিসের ব্যর্থতা আমাদের ওয়ার্ডের সকলের। কারণ সিটি স্ক্যান মেশিন সেদিন অকেজো ছিল। শত প্রচেষ্টার পরও সেই ব্যক্তিকে বাঁচানো যায়নি। ‘থার্ড ইয়ার, ফোর্থ ইয়ার, ফিফথ ইয়ারে, পরবর্তীতে ইন্টার্নশিপের সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনেক সময় দেখেছি, উপলব্ধি করেছি সেই অসহায়ত্ব।
জুবাইদা রহমান বলেন, পেডিয়াট্রিক ওয়ার্ডের রোটেশনের সময় দুই চোখ অন্ধ ছোট্ট শিশু পেট্রোলজি অব ফ্যাটের রোগী, সে কেমন করে যেন বুঝতে পারতো, আমি তার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। তাকেও হারাই অপারেশনের টেবিলে। অথবা অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত একজন গৃহকর্মী যে যন্ত্রণায় চিৎকার করতো, অন্য রোগীদের অনুরোধে তাকে বারান্দায় শত গরম থাকা সত্ত্বেও ভালো জায়গায় নেয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, গাইনোকোলজি অ্যান্ড অবস্ট্রনিক রোটেশনের সময় সেই দিনের কথা প্রায়ই মনে পড়ে, যখন আল্ট্রাসনোগ্রামে অষ্টম শিশু কন্যা হবে বলে স্ত্রীকে একাকী ওয়ার্ডে রেখে যায় তার স্বামী। জন্ম নেয়ার পর দেখা যায় সেটি পুত্রসন্তান। কিন্তু শ্বাস নিতে দেরি করায় মুহ্যমান অসহায় স্বামী, তার অসহায়ত্ব হয়তো বোঝা যায়। পরে শিশুটি বেঁচে যাওয়ায় পরিবারটি স্বস্তি পায়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুসররাত সুলতানার সভাপতিত্বে সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী এমএন মুহিত এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. মাজহারুল শাহীন বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এসএম জিয়া হায়দার, স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নাজমুল হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ, বিএনপি’র স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক নাজমুল হাসান প্রমুখ।
