পিতা যখন ঘাতক

পিতা যখন ঘাতক

ফন্ট সাইজ:

জন্মদাতা পিতার হাতেই খুনের শিকার হয়েছে খুলনার সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬)। কথার অবাধ্য হওয়ায় রাগের মাথায় নেশাগ্রস্ত পিতা আলীম হোসেন আকাশ মাথার পেছনে আঘাত করায় অজ্ঞান হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে। এরপর চরম অস্থিরতার
মধ্যে বস্তাবন্দি করে নিরালা এলাকায় ফেলে পালিয়ে যায় পিতা।

নির্জনা হত্যার ঘটনায় মা সীমা আক্তার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। একই ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আলীম হোসেন আকাশকে আটকের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
শনিবার কেএমপি’র সদর দপ্তরে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ পরিচয় শনাক্ত ও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে। পিবিআই, সিআইডিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহায়তায় পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিকটিমের ছবি প্রচার, বেতার বার্তা প্রেরণ এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। অজ্ঞাতনামা ভিকটিমের পরিচয় শনাক্ত করতে না পারায় থানা পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ১০ই জুলাই খুলনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তের ২৪ ঘণ্টার ভেতর নিহতের পরিচয় আরফানা হোসেন নির্জনা হিসেবে শনাক্ত হয়। নির্জনা সোনাডাঙ্গা থানাধীন বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং মো. আলিম হোসেন আকাশ ও আরিফা ইয়াসমিন সীমা দম্পতির কন্যা।

পরবর্তীতে খুলনা সদর থানা পুলিশ নিহতের বাসায় গিয়ে তার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা (৩৫) কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করেন। পরে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে একপর্যায়ে স্বীকার করেন যে, তার মেয়ে বিভিন্ন ছেলেদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে, যার ফলশ্রুতিতে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। পারিবারিক কলহের কারণেই নিজ কন্যা আরফানা হোসেন নির্জনা এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। হত্যার পর মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খুলনা সদর থানাধীন প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর রোডে ফেলে রেখে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেন। ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করতে খুলনা সদর থানা পুলিশের একটি টিম ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ১০ই জুলাই আরিফা ইয়াসমিন সীমাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তিনি স্বেচ্ছায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

এর আগে শুক্রবার খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহীম খলিল মুহিম নিহতের মা সীমা আক্তারের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

সীমা জানান, অল্প বয়সে পরপর দু’টি বিয়ে হওয়া এবং প্রায়ই কথার অবাধ্য হয়ে বাড়ির বাইরে থাকার কারণে মেয়ে নির্জনার ওপর প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত ছিলেন তার পিতা আলিম হোসেন আকাশ। গত বুধবার সন্ধ্যার দিকে সোনাডাঙ্গা বসুপাড়ার বাসায় এই নিয়ে ফের পারিবারিক কলহ শুরু হলে রাগের মাথায় নির্জনার মাথার পেছনে সজোরে আঘাত করেন আকাশ। এতে মুহূর্তের মধ্যে অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে নির্জনা এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন