লস অ্যাঞ্জেলেসের মাঠ তখন স্তব্ধ। ম্যাচের ৭১ মিনিটে যখন থিবো কোর্তোয়া চোখের জল মুছতে মুছতে সাইডলাইনের দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন আসলে শেষ হয়ে যাচ্ছিল বেলজিয়ামের ফুটবলের আস্ত একটি সোনালী অধ্যায়। স্পেনের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের হাই-প্রেশার ম্যাচে ১-১ সমতার মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদ তারকার এই চোট ও অশ্রুসিক্ত প্রস্থানই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের ঠিক শুরুর দিকে একটি সাধারণ গোল কিক নেয়ার সময় নিজের ডান পায়ের কুয়াড্রিসেপস পেশিতে তীব্র টান অনুভব করেন ৩৪ বছর বয়সী গোলকিপার। পেশির এই চোটের পরও কোর্তোয়া পোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে শট ঠেকানোর মতো পজিশনে স্বাভাবিক ছিলেন।
তবে তিনি দূরপাল্লার কোনো কিক নিতে পারছিলেন না। প্রতিটি শট নেয়ার চেষ্টায় তীব্র ব্যথা ফিরে আসছিল। ম্যাচের এই ক্রুশাল মুহূর্তে বেলজিয়ামের প্রধান কোচ রুডি গার্সিয়ার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো ঝুঁকি না নিয়ে শতভাগ ফিট কাউকে খেলানোর স্বার্থে কোর্তোয়াকে তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। মাঠ ছাড়ার সময় গ্যালারিতে উপস্থিত দুই দেশের হাজার হাজার দর্শক দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে সময়ের অন্যতম সেরা এই গোলকিপারকে সম্মান জানান। ম্যাচ শেষে নিজের চোটের বিবরণ দিয়ে কোর্তোয়া বলেন, ‘আমি আরও ৫-১০ মিনিট খেলতে চেয়েছিলাম, কারণ পোস্টের নিচে আমি বেশ ভালো বোধ করছিলাম। সেভ করতেও কোনো সমস্যা হচ্ছিল না। কিন্তু দূরপাল্লার কিক নিতে গেলেই ব্যথা বাড়ছিল। তবে কোচের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার কোনো ক্ষোভ নেই। দলের স্বার্থই সবার আগে।’
কোর্তোয়ার চোটের চেয়েও বেশি নির্মম ছিল তার বিদায়ের পরের ২০ মিনিট। আন্তর্জাতিক ফুটবলে মাত্র তৃতীয় ম্যাচ খেলতে নামা ২৪ বছর বয়সী বিকল্প কিপার সেনে লামেন্স মাঠে নেমে চরম স্নায়ুচাপের শিকার হন। ৮৮ মিনিটে স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসির একটি সাধারণ নিচু শট গ্রিপে নিতে ব্যর্থ লামেন্স। হাত
থেকে ফস্কে যাওয়া সেই রিবাউন্ড বল জালে জড়িয়ে স্পেনের জয় নিশ্চিত করেন মিকেল মেরিনো। সতীর্থের এই মারাত্মক ভুলের রাতেও কোর্তোয়া ড্রেসিংরুমে গিয়ে তরুণ লামেন্সকে
জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন এবং সংবাদ সম্মেলনে তার পাশে দাঁড়ান।
কোর্তোয়া বলেন, ‘সেনে একজন দুর্দান্ত কিপার। এমন তেতো অভিজ্ঞতাই একজন খেলোয়াড়কে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করে তোলে।’
বিদায়ের এই ক্ষণে কোর্তোয়া নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টে দলের সঙ্গে কাটানো প্রতিটা মুহূর্ত আমি উপভোগ করেছি। তবে আগামী বিশ্বকাপে আমি থাকবো কি না, তা নিয়ে কোচ ও ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বসেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবো।’
