ক্ষমা চেয়ে ভক্তদের যে বার্তা দিলেন ভিনি

ক্ষমা চেয়ে ভক্তদের যে বার্তা দিলেন ভিনি

ফন্ট সাইজ:

চার দিন চুপ ছিলেন। কী লিখবেন, বুঝতে পারছিলেন না। তারপর বুকের ভেতর জমে থাকা কষ্টটা ঢেলে দিলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। রিয়াল মাদ্রিদের তারকা। ব্রাজিলের ভরসা। নরওয়ের কাছে হারের পর নীরবতা ভেঙে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। বলেছেন, এই ব্যর্থতার দায় তার। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে এবার যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিল ব্রাজিল। কিন্তু শেষ ষোলোতেই থামে তাদের যাত্রা। নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় সেলেসাওরা। এই হারে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ের অপেক্ষা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ বছরে। এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের শুরুটাই হয়েছিল চোটের অভিশাপ নিয়ে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই স্কোয়াড থেকে ছিটকে যান আক্রমণভাগের দুই মূল ভরসা রদ্রিগো ও এস্তেভাও।

এরপর টুর্নামেন্ট চলাকালে এ তালিকায় যোগ হন রাফিনিয়া ও লুকাস পাকেতা। এই তারকাকে হারিয়ে পুরো আক্রমণের ভার এসে পড়ে ভিনিসিয়ুসের কাঁধে। সেই দায়িত্ব তিনি পালনও করেছেন। পাঁচ ম্যাচে করেছেন ৪ গোল ও ১ অ্যাসিস্ট। কিন্তু শেষ ষোলোর মঞ্চে দলকে আর জেতাতে পারেননি। বিদায়ের ধাক্কা সামলে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে চার দিন সময় নিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড। তারপর ইনস্টাগ্রামে লিখলেন আবেগঘন এক পোস্ট। ভিনিসিয়ুস লিখেছেন,‘বিশ্বকাপের আরেকটা হতাশার গল্প লেখার পর কী লিখবো, তা আবারও ভাবছি। সবাইকে আমাকে সমর্থন করতে ও আমাদের স্বপ্নকে আগলে রাখতে দেখেছি। তাই এখন চুপ করে থাকাটা অন্যায় হবে। তবে পুরো বিষয়টি ভেবে দেখার জন্য আমার কয়েকটা দিন দরকার ছিল।’

সমর্থকদের উদ্দেশে ভিনিসিয়ুস লিখেন, ‘জাতীয় দলের জার্সি পরা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয়। আর বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে ছিটকে যাওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমি জানি আমি কতটা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, কতটা মনোযোগী ছিলাম এবং আপনাদের ও আমার পরিবারের জন্য বিশ্বকাপ জিততে চেয়েছিলাম। আমি অনেক বেশি হতাশ। আরও অনেক দূর যাওয়ার মতো শক্তিশালী দল আমাদের ছিল, কিন্তু আমরা পারিনি। আমি আপনাদের সবার কাছে ক্ষমা চাইছি। আবারও দলকে বিশ্বসেরা বানানোর জন্য আমি লড়াই করে যাবো।’ বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দেশ ব্রাজিল। পাঁচটি শিরোপা তাদের। ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ এবং ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল ব্রাজিল। এরপর পর কেটে গেছে ২৪ বছর।

২০১৪ সালে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে সেমিফাইনালে ৭-১ গোলে হারের অপমান এখনো ভুলতে পারেনি ব্রাজিল। ২০১৮ সালে বেলজিয়ামের কাছে কোয়ার্টারে বিদায়। ২০২২ সালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে পেনাল্টিতে হেরে কোয়ার্টার থেকে বিদায়। এবার শেষ ষোলোতেই থামলো শিরোপার স্বপ্ন। হতাশা কাটিয়ে নতুন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ভিনিসিয়ুস। বলেছেন লড়াই থামবে না। সমর্থকদের ভালোবাসার কথা জানিয়ে জার্সির সম্মান রক্ষার শপথ নিয়েছেন তিনি। ২৪ বছর বয়সী এই তারকার সামনে লম্বা ক্যারিয়ার বাকি। ২০২৮ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক এবং ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে ইতিহাস রচনার সুযোগ পাবেন তিনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন