স্পেন-বেলজিয়াম ম্যাচে রেকর্ড ও পরিসংখ্যানের ফুলঝুরি

স্পেন-বেলজিয়াম ম্যাচে রেকর্ড ও পরিসংখ্যানের ফুলঝুরি

ফন্ট সাইজ:

লস অ্যাঞ্জেলেসে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্পেন। প্রথমার্ধে ফাবিয়ান রুইজ ও চার্লস ডি কেটেলারের গোলে ম্যাচ সমতায় থাকার পর, ৮৮ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনো লা রোহাদের শেষ চারে পৌঁছে দিয়েছেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে স্প্যানিশ ফুটবল দল এবং খেলোয়াড়রা বিশ্বমঞ্চের একাধিক ঐতিহাসিক রেকর্ড নিজেদের নামে করে নিয়েছেন। মানবজমিনের পাঠকদের জন্য সেগুলো তুলে ধরা হলো।

৯: ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে শেষ ১৬র ম্যাচে হারার পর থেকে বিশ্বমঞ্চের নকআউট পর্বে টানা ৯ ম্যাচে অপরাজিত থাকার কীর্তি ধরে রাখল স্পেন (৭ জয়, ২ ড্র)। টাইব্রেকারে গড়ানো ম্যাচগুলো অফিশিয়ালি ড্র হিসেবে রেকর্ড করা হয়।

৩৬: সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৩৬ ম্যাচে অপরাজিত থাকার নতুন দলগত রেকর্ড গড়ল স্পেন (২৭ জয়, ৯ ড্র)। এর আগে ২০০৭-২০০৯ এবং ২০১৮-২০২১ সালে গড়া টানা ৩৫ ম্যাচের রেকর্ড ভেঙে দিলো এই স্কোয়াড।
১: মিকেল মেরিনো বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম বদলি খেলোয়াড় হিসেবে একাধিক নকআউট ম্যাচে জয়সূচক গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। একইসঙ্গে, গত ৬০ বছরের ইতিহাসে তিনি প্রথম খেলোয়াড়, যিনি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ৮৭ মিনিটের পরে দু’টি ম্যাচ উইনার গোল করলেন।

২: আলভারো মোরাতা ও ফের্নান্দো মোরিয়েন্তেসের পর তৃতীয় স্প্যানিশ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে বদলি নেমে একাধিক গোল করার তালিকায় নাম লেখালেন মেরিনো (উভয়েরই গোল ২টি)।
১২: সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে স্পেনের বিপক্ষে বেলজিয়ামের জয়হীন থাকার রেকর্ড এখন দাঁড়িয়েছে ১২ ম্যাচে, যার মধ্যে শেষ ৬টি ম্যাচেই হেরেছে বেলজিয়াম।
২: ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ওয়েলসের বিপক্ষে ব্রাজিলের পেলে ও আলতাফিনির পর স্পেনই প্রথম দল, যারা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে একসঙ্গে দুই কিশোর ফুটবলারকে (লামিন ইয়ামাল ও পাউ কুবারসি) শুরুর একাদশে মাঠে নামিয়েছে।
৬: ১৮ বছর বা তার কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৬টি ম্যাচ খেলার রেকর্ড এখন এককভাবে ইয়ামালের দখলে।

৬৪৯: চার্লস ডি কেটেলারের গোলটি স্পেনের জালে এক অনবদ্য রেকর্ডের সমাপ্তি ঘটায়। ২০২২ সালের গ্রুপ পর্বে জাপানের বিপক্ষে গোল খাওয়ার পর থেকে টানা ৬৪৯ মিনিট বিশ্বকাপে কোনো গোল হজম করেনি স্পেন, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে দীর্ঘতম ক্লিনশিটের রেকর্ড। এর আগে দীর্ঘতম রেকর্ডটি ছিল ইতালির ওয়াল্টার জেঙ্গার (৫১৭ মিনিট)। জেঙ্গার সেই রেকর্ডটি ভেঙেছিলেন আর্জেন্টিনার ক্লদিও কানিগিজা, যিনি সে সময় ইতালিয়ান ক্লাব আতালান্তায় খেলতেন। কাকতালীয়ভাবে, স্পেনের রেকর্ড ভাঙা কেটেলারও বর্তমানে আতালান্তার হয়ে খেলছেন।
৩: চলতি বিশ্বকাপে এটি কেটেলারের তৃতীয় গোল, যা ২০২৫-২৬ মৌসুমে আতালান্তার হয়ে খেলা তার ৩১টি সিরি-এ ম্যাচের মোট গোলের সমান। এছাড়া বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ নকআউটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে রোমেলু লুকাকুর (৩ গোল) পাশে নাম লেখালেন এই ২৫ বছর বয়সী তারকা।
০ এবং ৮: ৪১ মিনিটে চার্লস ডি কেটেলারের ওই গোলের পর বেলজিয়াম ম্যাচে আর কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। বিপরীতে স্পেন ম্যাচের বাকি সময়ে আরও ৮টি সুযোগ তৈরি করে।
১১: চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত স্পেনের গোল সংখ্যা ১১টি, যা ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপে তাদের যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের সমান। ২০১০ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আসরের চেয়েও এবার তারা ৩টি গোল বেশি করেছে।

৮: রক্ষণভাগেও টুর্নামেন্টের সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়েছে স্পেন। পুরো আসরে এখন পর্যন্ত তারা প্রতিপক্ষকে নিজেদের পোস্টে মাত্র ৮টি শট (যার মধ্যে বেলজিয়াম নিয়েছে ২টি) নিতে দিয়েছে। ১৯৬৬ সালের পর অন্তত ৬টি ম্যাচ খেলা দলগুলোর মধ্যে তারাই একমাত্র দল, যারা প্রতিপক্ষকে সিঙ্গেল ডিজিট শটের মধ্যে আটকে রাখতে পেরেছে।
৬: চলতি বিশ্বকাপে প্রতি ৯০ মিনিটে প্রতিপক্ষের বক্সে গড়ে ৬.৩৩ বার বলের দখল কেড়ে নিচ্ছে স্পেন, যা গত ৬০ বছরের ইতিহাসে ষষ্ঠ সর্বোচ্চ হার। এই তালিকায় শীর্ষে আছেন পেদ্রি (১.৮৯) এবং তিনে আছেন ইয়ামাল (১.৭৮)।
২ এবং ১: ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের ২ নম্বর দল স্পেন ও ১ নম্বর দল ফ্রান্স সেমিফাইনালে পা রাখলো। ১৯৯৪ সালের পর এই নিয়ে পঞ্চমবারের মতো শীর্ষ চারের দুটি দল সেমিফাইনালে পৌঁছালো। তবে ১৯৯৪ সালের পর শীর্ষ চারের চার দলই সেমিফাইনালে যাওয়ার কোনো নজির নেই।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন