মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সঠিক চিকিৎসাই স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষের আস্থা ফেরাতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের আয়োজনে ডা. শামসুল আলম খান মিলন মিলনায়তনে কলেজটির ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজ ডে’ এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান এই কলেজের ৪৩তম ব্যাচের ছাত্রী ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে তার আগমনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে গাড়ি ডাইভ করে তার সহধর্মিনী জুবাইদা রহমানকে নিয়ে মেডিকেল কলেজে যান। প্রথমে বেলুন উড়িয়ে ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ডিএমসি ডে‘র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তার সহধর্মিণীকে নিয়ে যান ছাত্রী কাজী ফজলুল হক মহিলা হোষ্টেলে। এই হোষ্টেলে ছিলেন জুবাইদা রহমান। সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিনী।
১৯৪৬ সালের এদিনে ১০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের যাত্রা শুরু হয়। জাতীয় সঙ্গীত দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজের ওপরে একটি প্রমাণ্য চিত্রে উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রথম দুই ঘন্টা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের ঢাকা মেডিকেল কলেজের ভাবনা শীর্ষক মতিবিনিময় সভা হয়। এতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীরা তাদের ভাবনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিল্পীর আঁকা আলোকচিত্র উপহার দেয়া হয়। আলোচনা সভার মূল অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে দুই ছাত্রী হলের চলমান প্রকল্পের তথ্যদি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী অবহিত হন। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান ক্যাম্পাসে দুই গাছের চারা রোপন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি প্রত্যাশা করি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এখন যেহেতু সরকারের পরিচালনার দায়িত্বে আছি, আমি ডাক্তারদের কাছে যারা বর্তমানে চিকিৎসক আছেন, ডাক্তার আছেন, যারা ডাক্তার হবেন- প্রত্যেকের কাছে আমার একটা প্রত্যাশা আছে। প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে প্লাস মাইনাস ফাইভ বিলিয়ন ডলার চলে যাচ্ছে বিদেশে চিকিৎসার জন্য। আমাদের দেশের লাখ লাখ মানুষ বিদেশে যাচ্ছেন চিকিৎসা করাতে। তার ফলে আমাদের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রাও সেই সঙ্গে চলে যাচ্ছে। আপনাদের (চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের) কাছে আমার প্রত্যাশা যে, আমরা কেন পারবো না এই পরিস্থিতিটির পরিবর্তন করতে? কেন আমাদের ডাক্তারদের উপরে দেশের মানুষের আস্থা এবং বিশ্বাস দৃঢ়তর করতে আমরা পারবো না।
তিনি বলেন, এই পরিবর্তন আমরা কোন আইন দিয়ে করতে পারবো না। এটি আমরা কোন প্রতিষ্ঠান দিয়ে করতে পারব না। এটি একমাত্র সম্ভব হবে আপনাদের মানবিক এপ্রোচ এবং আপনাদের সঠিক চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে। আজকে অনুষ্ঠানে ঢাকা মেডিকেলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে শুধু ডিএমসি না বাংলাদেশের প্রত্যেকটি হসপিটাল বা প্রত্যেকটি মেডিকেল কলেজের যারা চিকিৎসক আছেন, যারা শিক্ষার্থী আছেন- আপনাদের সকলের কাছে এই পরিবর্তনটি অর্থাৎ দেশের মানুষ আমার দেশের চিকিৎসকদের উপরে সম্পূর্ণ এবং বিশ্বাস রাখবে ভবিষ্যতে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ একটি ইতিহাস উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ আমরা যদি চিন্তা করি, এটা শুধু মেডিকেল কলেজ না, আমার কাছে মনে হয়েছে যে, এটা একটা ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী। এখানে আমরা একটু আগে যে ডকুমেন্টারিটা দেখলাম, সেই ডকুমেন্টারিটা বিবেচনা করি তাহলে আমরা দেখব যে, আসলে এটা ইতিহাসের একটা সাক্ষী।
এই ডকুমেন্টারিতে দেখেছি ১৯৫২ সালে কিভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ আমাদের সেই ভাষা আন্দোলনের অবদান রেখেছে। আমরা দেখেছি, সেখানে আমরা জানি ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা মেডিকেল কলেজ কিভাবে সেখানে অবদান রেখেছে। ’৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন সেই আন্দোলনকে সফল করার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ কিভাবে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে এবং সবশেষে আমরা দেখেছি ২০২৪ সালে ৫ই আগস্ট অর্থাৎ জুলাই আন্দোলনে কিভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রত্যেকটি চিকিৎসক প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারী কিভাবে সেই আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রতোভাবে জড়িয়ে গিয়েছিলেন, কিভাবে সেদিন আহত শহীদ মানুষগুলোর পাশে তারা দাঁড়িয়েছিলেন, চিকিৎসা নিয়েছিলেন প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এই বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে।

MD MOSTAFA KAMAL
১ ঘন্টা আগেকথা সবই সুন্দর লাগে কিন্তু কাজে কোন প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না প্রত্যেকটা সরকারি হসপিটালে যেই নোংরা অবস্থায় থাকে ওইখানে চিকিৎসা তো দূরের কথা সুস্থ মানুষ অসুস্থ হয়ে আসবে। দ্বিতীয় আরেকটি কথা বলি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার এরকম অবনতির জন্য সবচেয়ে দায়ী আপনার সরকার।