কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভা। প্রায় ৩৬ কোটি টাকার সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প নেয়া হয়েছিল। কাজও শুরু হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে দুই বছরেও শেষ হয়নি সে কাজ। আর এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌর এলাকার অন্তত ৩০ হাজার বাসিন্দা। এক বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল কাজটি। কিন্তু বিভিন্ন অজুহাতে কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবুও প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও অসমাপ্তই রয়ে গেছে।
এতে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। বাড়ছে দুর্ঘটনা ও জলাবদ্ধতা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং পৌর কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবকে এ অবস্থার জন্য দায়ী করছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে খোঁড়াখুঁড়ি করে রাখা হলেও কাজের অগ্রগতি খুবই ধীর। কোথাও ড্রেনের কাজ অসমাপ্ত, কোথাও রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা-পানিতে চলাচল দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার পৌরসভায় যোগাযোগ করেও কার্যকর কোনো সমাধান পাননি বলে অভিযোগ ।
এ পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ পৌরবাসী দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার দাবিতে একাধিকবার মানববন্ধন করেছেন। পাশাপাশি পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতারের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন। তবে এত কিছুর পরও কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে প্রতিনিয়ত। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দ্রুত কাজ শেষ না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জিলাল বলেন, ‘নির্মাণকাজে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি নেই। ঠিকাদাররা কাজের নামে পৌরবাসীকে জিম্মি করে রেখেছেন। ভাঙাচোরা সড়ক ও খোঁড়াখুঁড়ির কারণে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, ব্যবসা-বাণিজ্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।’
কুমারখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি খন্দকার লিপু বলেন, ‘প্রায় দুই বছর আগে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণকাজ শুরু হলেও এখনও শেষ হয়নি। বিভিন্ন স্থানে গর্ত খুঁড়ে ফেলে রাখায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এমনকি একটি শিশুর প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। বৃষ্টির সময় মানুষের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আগামী এক মাসের মধ্যে কাজ শেষ না হলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।’
যুব অধিকার পরিষদের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শাকিল আহমেদ তিয়াস বলেন, ‘উন্নয়নকাজের ধীরগতির কারণে একদিকে দুর্ঘটনা বাড়ছে, অন্যদিকে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। মানববন্ধনের মাধ্যমে পৌর প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আইইউজিআইপি প্রকল্পের আওতায় ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ধাপে ধাপে ড্রেন ও সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। তবে অধিকাংশ প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হয়নি। কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও এখনো প্রায় ৩০ শতাংশের বেশি কাজ বাকি রয়েছে।
কুমারখালী পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী এ কে সামসুজ্জামান বলেন, ‘আমি নতুন যোগদান করেছি। ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক জটিলতার কারণে কিছুদিন কাজের গতি কমে যায়। এছাড়া দীর্ঘদিন প্রকৌশলী না থাকায় কাজেও বিলম্ব হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ড্রেন নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। রাস্তার কাজেরও সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। শুধু টানা বৃষ্টির কারণে কাজ শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে। বৃষ্টি কমলেই রাস্তার কাজও শুরু হবে বলে আশা করছি।’
এ বিষয়ে কুমারখালী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, ‘এ প্রকল্পে একাধিক ঠিকাদার কাজ করছেন। ড্রেন নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং রাস্তার কাজও দ্রুত শুরু হবে। শিশুমৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে কাজ নিয়মিত ও কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।’
