চট্টগ্রামে বন্যার্তদের পাশে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন

চট্টগ্রামে বন্যার্তদের পাশে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন

ফন্ট সাইজ:

টানা দীর্ঘদিনের ভারী বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত বন্যার্ত ও পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এক মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ)। জেডআরএফ এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের নির্দেশনায় এবং ফাউন্ডেশন এর নির্বাহী পরিচালক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিগত ৫ দিন ধরে প্রবল বর্ষণের কারণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলের পানিবন্দী মানুষের মাঝে ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে খাবার ও ঔষধ বিতরণ কর্মসূচি পানল করা হয়।
শুক্রবার বিকালে নগরীর ষোলশহর রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকার পানি বন্দি মানুষের মাঝে খাবার বিতরণের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয়।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে আজ শুক্রবার চট্টগ্রামের দুটি পৃথক স্থানে জরুরি খাদ্যসামগ্রী ও প্রাথমিক ঔষধ বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
প্রথম কর্মসূচি বিকেল সাড়ে ৩টায় হাটহাজারী উপজেলার বড়দিঘীর পাড়স্থ খিল্লাপাড়া (ভাটিয়ারী লিংক রোড সংলগ্ন) এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় কর্মসূচি বিকেল সাড়ে ৪টায় মিনিটে চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর রেল স্টেশন এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়।

উভয় স্থানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ও পানিবন্দী মানুষের মাঝে জরুরি খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ঔষধ বিতরণ করা হয়।
বিতরণকৃত খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ছিল চিড়া, গুড়, মুড়ি, চানাচুর, বিস্কুট, পাউডার দুধ, ওরাল স্যালাইনসহ অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনীয় সামগ্রী। পাশাপাশি অসুস্থ ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়।
বড়দিঘী কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম, সদস্য, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এবং অধ্যাপক ড. মো: আহসানুল হক, মনিটর, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন, চট্টগ্রাম বিভাগ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি জিয়া উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. শাহারিয়ার হোসেন তালুকদার। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মু. খুরশেদুল আলম, ১ নং দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি গাজী মো: ইউসুফ, সাধারণ সম্পাদক শাহাজাহান চৌং মঞ্জুসহ বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এ কর্মসূচিতে ১২০টি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এদিকে ষোলশহর রেল স্টেশন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. মো. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জমিরউদ্দিন নাহিদ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ শাখা ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ মোঃ জসিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম জেলা শাখা ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দিন আহমেদ মানিক, জিয়াউর রহমানন ফাউন্ডেশনের সদস্য ও চট্টগ্রাম জেলা শাখা ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী, এএবি সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আতিক বিল্লাহসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

কর্মসূচির সার্বিক আয়োজনে যুবদল নেতা নাশিদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করেন। এ কর্মসূচিতে ৫০টি ত্রাণ প্যাকেজ বিতরণ করা হয়। সমগ্র আয়োজনের সার্বিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ড. জোবাইদা রহমান। কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। এছাড়াও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী - এই সময়োপযোগী মানবিক উদ্যোগকে উৎসাহিত করেন এবং দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত কর্মসূচি দুটির স্থানীয় সমন্বয় ও সার্বিক আয়োজনের নেতৃত্ব প্রদান করেন অধ্যাপক ড. মো: আহসানুল হক, মনিটর, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন, চট্টগ্রাম বিভাগ এবং ড. বেলায়েত হোসেন ঢালী, সদস্য, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ও সাধারণ সম্পাদক, ড্যাব, চট্টগ্রাম জেলা শাখা। তাঁদের সার্বিক তত্ত্বাবধান, সমন্বয় ও দিকনির্দেশনায় বড়দিঘী ও ষোলশহর উভয় স্থানে ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্যোগ মোকাবিলায় কেবল তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণ নয়; বরং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা কার্যক্রমও পর্যায়ক্রমে অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে চট্টগ্রামের আরও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় একই ধরনের সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

এই মানবিক উদ্যোগ দুর্যোগকবলিত মানুষের মাঝে তাৎক্ষণিক স্বস্তি এনে দিয়েছে এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে মানবিক সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে ধারাবাহিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন