মাঠে দুর্র্ধষ গোলদাতা হিসেবে পরিচিত নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। তবে মাঠের বাইরে তার ব্যক্তিগত জীবন বেশ সাদামাটা ও প্রচারের আলো থেকে দূরে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সম্পর্কে রয়েছেন ২২ বছর বয়সী মডেল ও ইনফ্লুয়েন্সার ইসাবেল হাউগসেং জোহানসেনের সঙ্গে।
মজার বিষয় হলো, এই সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল ইসাবেলের পাঠানো একটি ব্যক্তিগত বার্তা (ডিএম) থেকে।
ইসাবেল বর্তমানে মডেল ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে পরিচিত হলেও একসময় তিনিও ফুটবলার ছিলেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে নরওয়ের ক্লাব ব্রিনে এফকের নারী দলের হয়ে ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলতে শুরু করেন তিনি।
হালান্ড ও ইসাবেল- দুজনেরই বেড়ে ওঠা নরওয়ের ছোট শহর ব্রিনেতে। দুজনই স্থানীয় ক্লাব ব্রিনে এফকের হয়ে খেলেছেন। ছোটবেলা থেকেই একে অপরকে চিনলেও তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে অনেক পরে।
হালান্ড জানান, ২০২১ সালের দিকে তিনি যখন জার্মান ক্লাব বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে খেলতে যান, তখন ইসাবেলই প্রথম তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা পাঠান।
এ প্রসঙ্গে হালান্ড বলেন, সে-ই আমাকে প্রথম বার্তা পাঠিয়েছিল। আমরা একই ক্লাব ব্রিনের হয়ে খেলতাম। আসলে সে-ই প্রথম আমাকে পছন্দ করেছিল, আমি নই।
মাত্র ২৫ বছর বয়সেই হালান্ডের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ড বলে ধারণা করা হলেও, তাদের ব্যক্তিগত জীবন বেশ সাধারণ। বিলাসবহুল আয়োজনের বদলে তারা ঘরেই সময় কাটাতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
স্বপ্নের ডেট নাইট সম্পর্কে হালান্ড বলেন, আমি রান্না করি। এটা হয়তো ওর কাছে একটু বিব্রতকর শোনাবে, কিন্তু ইসাবেল ভিডিও গেম খেলতে খুব পছন্দ করে। আমরা একসঙ্গে মাইনক্রাফট খেলি, ঘরবাড়ি বানাই। আর কখনও ব্রিনেতে ফিরে গিয়ে কাবাব অর্ডার করি।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এই যুগলের ঘরে প্রথম সন্তানের জন্ম হয়। তাদের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। তবে প্রায় ৯ লাখ ৪৫ হাজার ইনস্টাগ্রাম অনুসারী থাকা সত্ত্বেও ইসাবেল পারিবারিক জীবনকে ব্যক্তিগত রাখতেই পছন্দ করেন। তাই এখন পর্যন্ত তারা সন্তানের নাম বা ছবি প্রকাশ করেননি।
নরওয়ের ‘কেকে’ ম্যাগাজিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসাবেল বলেন, আমি আমার পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে চাই। একই সঙ্গে মানুষ যেন আমাকে এবং আমি কে- সেটিও জানতে পারে। তবে ব্যক্তিগত ও প্রকাশ্য জীবনের সীমারেখা নির্ধারণ করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বর্তমানে ইংল্যান্ডে বসবাস করছেন হালান্ড ও ইসাবেল। যদিও তারা শান্ত-সাদামাটা জীবনযাপন করেন, তবু ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকার বিপুল আয়ের কিছু সুবিধাও ভোগ করেন।
হালান্ডের সাপ্তাহিক বেতন প্রায় পাঁচ লাখ পাউন্ড বলে জানা যায়।
সম্প্রতি তিনি ইংল্যান্ডের চেশায়ারে ৬২ লাখ পাউন্ড ব্যয়ে ১০ শয়নকক্ষের একটি বিলাসবহুল প্রাসাদ কিনেছেন। বিশাল এই বাড়িতে একটি হ্রদ, খোলা সুইমিং পুল, বড় বাগান, কোচ হাউস এবং ঘোড়ার আস্তাবল রয়েছে।
এছাড়া প্রায় এক কোটি পাউন্ড মূল্যের সুপারকার সংগ্রহ রাখার জন্য চারটি গাড়ি রাখার বিশেষ গ্যারেজ নির্মাণের অনুমতিও পেয়েছেন হালান্ড। তার সংগ্রহে প্রায় ৪০ লাখ পাউন্ড মূল্যের বিরল বুগাত্তি টুরবিয়োঁও রয়েছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, আধুনিক যুগের একজন ফুটবলারের যা যা প্রয়োজন, তার সবই এই বাড়িতে রয়েছে। একই সঙ্গে এটি এতটাই নির্জন যে, বাড়িতে ফিরলে হালান্ড ফুটবলের সব চাপ থেকে পুরোপুরি দূরে থাকতে পারেন।
হালান্ডের মতে, ইসাবেলের ফুটবল খেলার অভিজ্ঞতা তাদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে। তিনি বলেন, সে নিজেও ফুটবল খেলেছে। তাই আমার ক্যারিয়ার, খেলার চাপ ও বাস্তবতা খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারে। এটা আমাদের সম্পর্কের জন্য দারুণ একটি বিষয়।
