চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে বিএনপি’র নির্বাচিত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে হাইকোর্ট সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিলের নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেন। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন। তবে হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে বলে জানিয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেনÑ জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. রাজু মিয়া।
যা বললেন সরোয়ার আলমগীরের আইনজীবীরা: রায়ের পর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় সরোয়ার আলমগীর ঋণখেলাপি ছিলেন না। রিটার্নিং কর্মকর্তা সেটি যাচাই করে বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। পরে আপিল শুনানিতে নির্বাচন কমিশন এমন কিছু নথি আমলে নেয়, যা মনোনয়ন দাখিলের পরের সময়ের। আইন অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে সৃষ্ট বা দাখিল হওয়া কোনো নথির ভিত্তিতে মনোনয়ন বাতিল করা যায় না। হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের সেই সিদ্ধান্তকেই অবৈধ ঘোষণা করেছেন।
জামায়াতের আইনজীবীর বক্তব্য: জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিনের পক্ষে শুনানি করা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, হাইকোর্ট সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন। তবে তাদের যুক্তি ছিল, প্রার্থীর যোগ্যতা নির্ধারণে মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন নয়, বরং আইনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচনা করা উচিত। তিনি জানান, আদালতের লিখিত রায় প্রকাশের পর তারা আপিল বিভাগে আবেদন করবেন। লিখিত রায় না পাওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেবে, সেটিও তখন স্পষ্ট হবে।
মামলার পটভূমি: চট্টগ্রাম-২ আসনে নির্বাচনে অংশ নিতে সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র প্রথমে বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন। গত ১৮ই জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সেই আপিল মঞ্জুর করে সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বাতিল করে। এর বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে আদালত প্রাথমিকভাবে ইসি’র সিদ্ধান্ত স্থগিত করে তাকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার অনুমতি দেন এবং ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করলে ৩রা ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ সরোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার অনুমতি দিলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।
পরে, গত ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সরোয়ার আলমগীর ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ নুরুল আমিন পান ৬২ হাজার ১৬০ ভোট। তবে আপিল বিভাগের নির্দেশনার কারণে ওই আসনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ এবং তার শপথ গ্রহণ স্থগিত ছিল। পরবর্তীতে আপিল বিভাগ মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টে পাঠালে চূড়ান্ত শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রুল যথাযথ ঘোষণা করে হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেন।
