২৮ মিনিট: ফ্রান্স ০-০ মরক্কো
পেনাল্টি মিস! ফরাসি শিবিরকে স্তব্ধ করে দিয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্বল পেনাল্টি রুখে দিলেন মরক্কোর গোলকিপার ইয়াসিন বুনু। এমবাপের রান-আপে কিছুটা দ্বিধা বা জড়তা ছিল, যার ফলে শটটিতে কোনো জোরালো পাওয়ার ছিল না। বুনু খুব সহজেই তার বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি তালুবন্দী করেন। এই পেনাল্টি সেভের পরপরই রেফারি প্রথমার্ধের হাইড্রেশন ব্রেকের বাঁশি বাজান।
১৩ মিনিট: ফ্রান্স ০-০ মরক্কো
ফ্রান্স বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যখনই আক্রমণের চেষ্টা করছে, গ্যালারি থেকে ভেসে আসছে তীব্র শিস আর দুয়োধ্বনি। তবে মরক্কো পাল্টা আক্রমণে গেলেই সেই দুয়ো রূপ নিচ্ছে গগনবিদারী উল্লাসে। এবার মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজ বল নিয়ে দ্রুত গতিতে ফরাসি রক্ষণে হানা দিলেও দারুণভাবে কামব্যাক করেন জুলেস কুন্দে। নিজের শারীরিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিখুঁত ট্যাকলে দিয়াজকে বল থেকে ছিটকে দেন এই ফরাসি ডিফেন্ডার।
৬ মিনিট: ফ্রান্স ০-০ মরক্কো
ম্যাচের শুরুতেই আরও একটি দারুণ সুযোগ হাতছাড়া হলো ফ্রান্সের। বাঁ প্রান্ত থেকে নিখুঁতভাবে বক্সে ওড়ানো একটি বলে সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় লাফিয়ে উঠে জোরালো হেড করেন ফরাসি ডিফেন্ডার দায়ো উপামেকানো। তবে মরক্কোর গোলকিপার ইয়াসিন বুনু দারুণ দক্ষতায় বলের গতিপথ পড়ে ফেলেন এবং চমৎকার এক সেভে সে যাত্রায় দলকে রক্ষা করেন।
মুখোমুখি মরক্কো-ফ্রান্স
সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মরক্কোর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফেবারিট ফ্রান্স। অ্যাটলাস লায়নদের বিপক্ষে ৬ বারের দেখায় এখনো হারেনি ফরাসিরা। ৬ ম্যাচে তাদের জয় ৪ ম্যাচে, বাকি ২ ম্যাচ ড্র।
বস্টনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ফরাসি শিবিরে মূল দুশ্চিন্তা অহেলিয়াঁ চুয়ামেনির ফিটনেস। তবে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে স্কোয়াডে আছেন এই মিডফিল্ডার। সুইডেনের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচের পর কুঁচকির চোটে পড়া রিয়াল মাদ্রিদ তারকা প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শেষ ১৬র ম্যাচে খেলতে পারেননি।
কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্দান্ত ফর্ম ও উসমান দেম্বেলে-মাইকেল ওলিসদের উপস্থিতিতে ফরাসিদের আক্রমণভাগ বেশ ছন্দে রয়েছে। আক্রমণভাগের বাঁ-প্রান্তে ব্র্যাডলি বারকোলার জায়গায় তরুণ দেজিরে দুয়ে-কে শুরুর একাদশে সুযোগ দিয়েছেন দেশম।
মরক্কোকে হারানোর মিশন ছাড়াও ফ্রান্সের সামনে রয়েছে কার্ডের বড় খড়গ। দলের তিন গুরুত্বপূর্ণ তারকা— মাইকেল ওলিসে, মানু কোনে এবং ব্র্যাডলি বারকোলা প্রত্যেকেই একটি করে হলুদ কার্ডের খড়গের নিচে আছেন। এই ম্যাচে আরেকটি হলুদ কার্ড পেলেই তারা সেমিফাইনাল থেকে নিষিদ্ধ হবেন।
অভিজ্ঞতা এবং শক্তিমত্তায় ফরাসিরা এগিয়ে থাকলেও, গতিশীল ফুটবলে সেমিফাইনালের টিকিট কাটতে দেশমের শিষ্যদের মাথা ঠান্ডা রেখেই মাঠে লড়তে হবে।
গত আসরে এই ফ্রান্সের কাছেই সেমিফাইনালে হেরে বিদায় নেয় মরক্কানরা। আজকের লড়াই তাই তাদের জন্য প্রতিশোধের।
ফ্রান্স একাদশ: মাইক মেনিয়ঁ, জুলস কুন্দে, উইলিয়াম সালিবা, দায়োত উপামেকানো, লুকাস দিনিয়ে, আদ্রিয়াঁ রাবিও, দেজিরে দুয়ে, মানু কোনো, মাইকেল ওলিসে, উসমান দেম্বেলে, কিলিয়ান এমবাপ্পে।
মরক্কো একাদশ :ইয়াসিন বুনু, নুসাইর মাজরাউয়ি, আনাস সালাহ-এদ্দিন, ইসা দিওপ, আশরাফ হাকিমি, আইয়ুব বুয়াদ্দি, নিল এল আয়নাউয়ি, ব্রাহিম দিয়াজ, আজ্জেদিন উনাহি শেমসদিন তালবি, বিলাল এল খান্নুস।
