বিশ্বকাপ জিততে ‘প্রয়োজনীয় সবকিছুই আছে’ স্পেনের

বিশ্বকাপ জিততে ‘প্রয়োজনীয় সবকিছুই আছে’ স্পেনের

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বকাপের মঞ্চে শিরোপা জয়ের গল্প শুধু ঝলমলে আক্রমণভাগ দিয়ে লেখা হয় না, তার ভিত্তি গড়ে ওঠে অভেদ্য রক্ষণে। লামিন ইয়ামাল, মিকেল ওয়ারজাবালদের দৃষ্টিনন্দন ফুটবল যেমন স্পেনকে আলোচনায় রেখেছে, তেমনি পাও কুবারসি, পেদ্রো পরো, আয়মেরিক লাপোর্ত, মার্ক কুকুরেয়া ও গোলরক্ষক উনাই সিমনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা রক্ষণভাগই লা রোহাকে পরিণত করেছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দলে। টানা ছয় ম্যাচে ক্লিনশিট, বিশ্বকাপে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় গোল না খাওয়ার বিশ্বরেকর্ড এবং প্রতিপক্ষের তারকাখচিত আক্রমণকে বারবার নিস্ক্রিয় করে দেয়াÑ সব মিলিয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়নরা যেন জানিয়ে দিচ্ছে, ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সব অস্ত্রই তাদের হাতে। আর সেই বিশ্বাসকেই আরও জোরালো করেছেন স্পেনের কিংবদন্তি ডিফেন্ডার ফার্নান্দো হিয়েরো।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের একটি বিখ্যাত উক্তি আছেÑ ‘আক্রমণ ম্যাচ জেতায়, কিন্তু শিরোপা জেতায় রক্ষণভাগ।’ চলতি বিশ্বকাপে স্পেন যেন সেই দর্শনেরই জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। ফরোয়ার্ড লাইনে লামিন ইয়ামাল, মিকেল ওয়ারজাবাল, ফেরান তোরেস, ড্যানি ওলমোদের মতো তারকার ছড়াছড়ি থাকলেও এবারের আসরে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা কুড়াচ্ছে তাদের রক্ষণভাগ। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই লা রোহার বিশ্বনন্দিত আক্রমণভাগ যেখানে কেপ ভার্দের রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হয়, সেখানে বব্লু শার্কদের আক্রমণভাগকেও পুরোপুরি স্তব্ধ করে দেন স্পেনের ডিফেন্ডাররা। কেপ ভার্দে যে আক্রমণে কতটা ভয়ংকর, তা তারা পরের ম্যাচগুলোতেই প্রমাণ করেছে। এমনকি রাউন্ড অব ৩২-এ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জালেও দুইবার বল জড়িয়েছিল তারা। কিন্তু স্পেনের রক্ষণভাগ ভেদ করার উপায় খুঁজে পায়নি। রাউন্ড অব ১৬-তে পর্তুগালের বিপক্ষে লামিন ইয়ামালরা নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলেও যখন গোলের দেখা পাচ্ছিলেন না, তখন স্পেনের রক্ষণপ্রাচীর কার্যত আটকে দেয় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, জোয়াও ফেলিক্স ও বের্নার্দো সিলভাদের। যে উনাই সিমনের স্পেনের এক নম্বর গোলরক্ষক হওয়া নিয়ে একসময় প্রশ্ন উঠেছিল, তিনিও এখন প্রতিটি ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছেন। এই দৃঢ় রক্ষণে ভর করেই ম্যাচে সমতা ধরে রাখে স্পেন এবং শেষ পর্যন্ত ইনজুরি সময়ে মিকেল মেরিনোর গোলে পর্তুগালকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা ছয় ম্যাচে ক্লিনশিটের কীর্তি গড়েছে স্পেন। চলতি বিশ্বকাপে কেপ ভার্দে, সৌদি আরব, উরুগুয়ে, অস্ট্রিয়া ও পর্তুগাল এই পাঁচ ম্যাচের পাশাপাশি ২০২২ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে মরক্কোর বিপক্ষেও তারা গোল হজম করেনি, যদিও টাইব্রেকারে বিদায় নিতে হয়েছিল। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে টানা ছয় ম্যাচ ও ১০ ঘণ্টা ৯ মিনিট ধরে গোল না খাওয়ার অনন্য রেকর্ড এখন লা রোহার দখলে। এবার দেখার বিষয়, ভিসেন্তে দেল বস্কের ২০১০ সালের দলের মতো লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলও শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে পারে কি না। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের সামনে প্রথম বড় বাধা বেলজিয়াম। এই বাধা পেরিয়ে স্পেন আবারও বিশ্বকাপ জিতবে বলেই বিশ্বাস করেন দেশটির কিংবদন্তি ডিফেন্ডার ফার্নান্দো হিয়েরো। ফিফাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে উত্তরসূরিদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি। তার মতে, বর্তমান স্পেন দলের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের ঐক্য, আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তা। হিয়েরো বলেন, ‘এই দলকে আমরা অত্যন্ত সংহত ও দৃঢ় মনে করছি। বাইরে থেকে দেখলেও বোঝা যায়, দলের ভেতরে দারুণ একটি পরিবেশ রয়েছে। দে লা ফুয়েন্তে জানেন, খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সেরাটা কীভাবে বের করে আনতে হয়। কারণ, যুব পর্যায় থেকেই তিনি তাদের নিয়ে কাজ করেছেন। এটি একটি শক্তিশালী দল। মানুষ তাদের বয়স নিয়ে কথা বলে, কিন্তু মাঠে সেটা একেবারেই বোঝা যায় না। তারা প্রস্তুত, আত্মবিশ্বাসী এবং সবচেয়ে বড় কথা, তারা ঐক্যবদ্ধ। আর এই গুণগুলোই বিশ্বকাপে বড় সাফল্য এনে দিতে পারে।’


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন