বিচারপতির নামে ভুয়া রায় (সার্টিফায়েড কপি) তৈরি করে টাঙ্গাইলের দুই গ্রামবাসীর কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এক কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে। পরে অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস তাকে রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে নিয়ে গেলে সেখান থেকে তাকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা কয়। অভিযুক্তের নাম আল আমিন। তিনি সুপ্রিম কোর্টের সিভিল শাখার কর্মচারী বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে রুহুল কুদ্দুস কাজল মানবজমিনকে জানান, দুই ভুক্তভোগী গ্রাম থেকে এসে তাদের কাছে অভিযোগ করেন যে, আল আমিন বিচারপতির নামে জাল সার্টিফায়েড কপি দিয়ে তাদের কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা নিয়েছেন। ওই কপিতে দেখানো হয়, তারা হাইকোর্টে মামলায় জয়ী হয়েছেন। সেই জাল রায়ের ভিত্তিতে তারা নিম্ন্ন আদালতেও মামলা করেন। পরে আদালতের নথি যাচাই করে দেখা যায়, মামলাটির কোনো রায়ই হয়নি; বরং মামলাটি এখনো বিচারাধীন এবং আগামী ১৫ই জুলাই শুনানির জন্য নির্ধারিত রয়েছে। অথচ জাল রায়ে ২০২৫ সালের ২রা মার্চ ‘রুল অ্যাবসলিউট’ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, আল আমিনের বিষয়টি জানার পর অভিযুক্তকে ভুক্তভোগীর মুখোমুখি করা হলে তিনি টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং তা ফেরত দেয়ার আশ্বাস দেন। কিছুক্ষণ পরে আবার তিনি এটি অস্বীকার করেন। বিচারপতির নামে জাল রায় তৈরি ও সরবরাহ করা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে অবহিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিচারপতিকেও জানানো হয়েছে, যার নামে ভুয়া সার্টিফায়েড কপি তৈরি করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট পুলিশের সহায়তায় অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে, সেখান থেকে আল আমিনকে শাহবাগ থানায় নেয়া হয়েছে। সেখানে ভুক্তভোগীরাও আছেন। তবে কোনো মামলা হয়েছে কি না এটি আমি নিশ্চিত না।
এদিকে, ভুক্তভোগীদের একজন জানান, মামলায় জয়ের আশ্বাস দিয়ে আল আমিন তাদের কাছ থেকে মোট ১৮ লাখ টাকা নেন। এই টাকা জোগাড় করতে তারা তিন ভাই মিলে প্রায় ১৫ বিঘা জমির ধান বিক্রি করেন। পরে জানতে পারেন, তাদের হাতে দেয়া রায়ের কপিটি সম্পূর্ণ জাল।
এ ঘটনায় সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জসিম বলেন, এটি কোনো একক ব্যক্তির কাজ নয়, বরং একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। অতীতেও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। তাই পুরো চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের দুর্নীতি ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তি যেই হোক, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
