ফের পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে বান্দরবান ও চকরিয়ায়। বৃহস্পতিবার রাতে পাহাড় ধসে দুই শিশুসহ ৭ জনের প্রাণহানি ঘটে। বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, বান্দরবানে বন্যা ও পাহাড় ধসের ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলার লামা উপজেলায় আজিজনগর পাহাড় ধসে একই পরিবারের তিনজনসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি সড়কে পানি ওঠা, পাহাড় ধস ও সড়ক তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জেলার সঙ্গে সারা দেশ এবং কয়েকটি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে লামা আজিজনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়াডের মিশনপাড়া (পাগলির জিরি) এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতভর টানা ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে কয়েকটি বসতঘরের উপর পড়ে। এ সময় ঘরের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা বাসিন্দারা মাটিচাপা পড়েন। এতে একই পরিবারের শিশুসহ তিনজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে উদ্ধার অভিযানে আরও দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচজনে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। এদিকে টানা বর্ষণে বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কের বাজালিয়া এলাকার সত্যপীর মাজার এলাকায় পানি ওঠায় জেলার সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া পাহাড় ধস ও সড়ক তলিয়ে যাওয়ার কারণে রুমা, থানচি, লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি ও রোয়াংছড়ি উপজেলার সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পর্যটক ও জনসাধারণের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র আগামী ১২ই জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানান, টানা পাঁচদিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়ায় ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে মাটির নিচে চাপা পড়ে একই পরিবারের দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন লায়লা বেগম নামে আরও এক নারী। তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ভোররাতে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মছনিয়া কাটার ডেবলতলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ৭ নম্বর মছনিয়াকাটা ডেবলতলী এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে তওসিফ মিয়া (১৩) ও একই এলাকার মৃত মোহাম্মদ কাজলের মেয়ে রুমি আক্তার (১৭)। সম্পর্কে তারা আপন চাচাতো-জেঠাতো ভাইবোন। এ ঘটনায় আহত লায়লা বেগম (৫০) মৃত মোহাম্মদ কাজলের স্ত্রী ও নিহত শিশু রুমির মা।
