নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মেথিকান্দা রেলস্টেশনে ২৫ বছর আগে কোনো এক ট্রেন থেকে নামেন বাকপ্রতিবন্ধী ববি বেগম। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যুক্ত হয় তার নতুন ঠিকানা। শুরু হয় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে পথচলা, সেই থেকে অদ্যাবধি মেথিকান্দা রেলস্টেশনে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করে আসছেন। তার আপনজন বলতে কেউ না থাকায় স্টেশনের একটি ছোট কক্ষেই ছিল তার বসবাস। বয়সের ভারের সঙ্গে বাকপ্রতিবন্ধকতা নিয়েই দিনের পর দিন স্টেশন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ করেছেন। সামান্য আয় ও যাত্রীদের সহযোগিতায় চলতো তার জীবন। কিন্তু গত ৪ঠা জুলাই গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত মেথিকান্দা রেলস্টেশনের একটি কক্ষে ঢুকে ববি বেগমের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় তাকে মারধর করে তার দীর্ঘদিনের জমানো প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এরপর আহত অবস্থায় স্টেশনকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আবার স্টেশনে ফিরিয়ে আনা হয়। এই ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসার পর সোমবার দুপুরে মেথিকান্দা রেলওয়ে স্টেশনে সশরীরে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ রানা। তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টির খোঁজখবর নেন এবং বৃদ্ধার চিকিৎসার সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নগদ আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি চাল, ডাল, তেল, লবণ ও মসলাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেন। এরপর কিছুটা সুস্থ থাকলেও গত বুধবার রাতে হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে রেফার করেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই রাত ১টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এরপর বুধবার রাত ৯টায় যে রেলস্টেশনকে তিনি নিজের ঘরের মতো আগলে রেখেছিলেন, সেই স্টেশনের সামনেই অনুষ্ঠিত হয় ববি বেগমের জানাজা। জানাজায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা, রায়পুরা থানার ওসি মজিবুর রহমান, রেলওয়ে পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্টেশনের কর্মচারীসহ শত শত মানুষ অংশগ্রহণ করে। পরে মেথিকান্দা এলাকার একটি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। ইউএনও মাসুদ রানা জানান, এই অসহায় বৃদ্ধার ওপর যারা এমন নৃশংস নির্যাতন ও লুটপাট চালিয়েছে, সেই আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশকে কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
