এক সফরে নিউ ইয়র্ক, ম্যানিলা ও মালদ্বীপ। ব্যস্ত কূটনৈতিক সূচি নিয়ে আজ সকালে ঢাকা ছাড়ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। প্রথমে তিনি যাবেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে। এরপর ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামে (এআরএফ) যোগ দেবেন। সফরের শেষ গন্তব্য মালদ্বীপ। সেখানে দেশটির জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। সব মিলিয়ে টানা ২০ দিনের সফরে ঢাকা ছাড়ছেন তিনি। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দেশে ফিরে আসার পর এই প্রথম দীর্ঘ সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, নিউ ইয়র্কে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি শুরু করবেন। এ সময় জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার একাধিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। অধিবেশন পরিচালনা এবং আগামী সেপ্টেম্বরের কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করবেন তিনি। আগামী ৮ই সেপ্টেম্বর শুরু হবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন। খলিলুর রহমানই হতে যাচ্ছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যক্তি। এর আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী।
এদিকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি পদে পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বর্তমান স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর স্থলে আগামী মাস থেকে সেখানে দায়িত্ব পালন করবেন আইরিন খান। যিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একজন মানবাধিকারকর্মী হিসেবে সমধিক পরিচিত। আইরিন খানকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা দেয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রতিমন্ত্রীর সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। জাতিসংঘে তার দায়িত্ব গ্রহণের আগ মুহূর্তে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিউ ইয়র্ক সফর বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নিউ ইয়র্কের কাজ শেষ করে ড. খলিলুর রহমান যাবেন ম্যানিলায়। সেখানে অনুষ্ঠেয় ৫৯তম আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের (এএমএম) বৈঠকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। একই সফরে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর পাশাপাশি সংলাপ অংশীদার দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেও যোগ দিতে পারেন ড. খলিলুর রহমান। কূটনৈতিক সূত্রের ভাষ্য, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সামুদ্রিক সহযোগিতা, ইন্দো-প্যাসিফিক, সাইবার নিরাপত্তা এবং অন্যান্য কৌশলগত বিষয় এসব বৈঠকের আলোচনায় প্রাধান্য পাবে। পাশাপাশি কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
ম্যানিলা থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যাবেন মালদ্বীপে। ২৬শে জুলাই দেশটির জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি। এ সফরের ফাঁকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেয়া, জনশক্তি রপ্তানি, বাণিজ্য, পর্যটন এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। মালদ্বীপ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ২৭শে জুলাই ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
