আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এটি বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক, নির্বাচনী ও জাতীয় অঙ্গীকার। একইসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিএনপি’র দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রের কবর রচনা করে ফ্যাসিবাদের নীলনকশা তৈরি করা হয়েছিল। শুরু থেকেই সরকার এটিকে সংবিধান পরিপন্থি বলে মনে করে এসেছে। হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে সংশোধনীর কিছু অংশ অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি বিষয়গুলো জাতীয় সংসদের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। পরে আপিল বিভাগও সেই রায় বহাল রেখেছেন। ফলে হাইকোর্টের রায়ই এখন চূড়ান্ত।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে। আদালতের রায়ের আলোকে জনমত যাচাই ও গণভোটের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চূড়ান্ত কাঠামো নির্ধারণ করা হবে। সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যালোচনা করে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে। রায়ে উল্লেখ করা ৫৪টি বিষয় পর্যালোচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’কে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন ও পরিমার্জন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদসহ যেসব ক্ষেত্রে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে উচ্চ আদালতের রায় ও জনআকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে পরিবর্তন আনা হবে। কোনো আইন বা সংবিধান সংশোধন জনগণের ওপর একতরফাভাবে চাপিয়ে দেয়া হবে না। আইনমন্ত্রী জানান, মানবাধিকার কমিশন আইনসহ বিভিন্ন আইনের খসড়া তৈরির সময় অংশীজনদের মতামত নেয়া হয়েছে। একইভাবে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রেও জনমত নেয়া হবে। এ ছাড়া পরিমার্জিত মানবাধিকার কমিশন আইন আগামী সংসদ অধিবেশনেই পাসের জন্য উত্থাপন করা হবে।
