২০১৩ সালে শাপলা চত্বরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত প্রায় শেষ। তদন্ত প্রতিবেদনের খসড়াও প্রস্তুত। এখন এটি যাচাই-বাছাই চলছে। ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম আগামী ২১শে জুলাই শুরু হলে প্রথম দিনেই মামলার ফরমাল চার্জ দাখিলের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
গতকাল চিফ প্রসিকিউটর মানবজমিনকে বলেন, ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শেখ হাসিনার নির্দেশে সারা দেশে যে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে, সেই অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদনের খসড়া বর্তমানে যাচাই-বাছাইয়ের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে দাখিল হবে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (ফরমাল চার্জ) প্রস্তুত করে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করবে। তিনি জানান, শাপলা চত্বরের ঘটনায় তৎকালীন সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, পুলিশ প্রধান, র্যাব প্রধান, বিজিবি প্রধানসহ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আসামি করা হবে। সম্ভাব্য আসামির সংখ্যা ২৮ থেকে ৩০ জন হতে পারে প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই চূড়ান্ত তালিকা নিশ্চিত করা হবে। চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের অবকাশকালীন ছুটি চলছে। ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম শুরু হলে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের মাধ্যমে মামলাটির বিচার কাজ শুরুর আবেদন করবো। শুধু শাপলা চত্বর নয়, ট্রাইব্যুনাল খুললেই অন্তত ১২টি মামলায় ফরমাল চার্জ দাখিলের প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, দীর্ঘসময় ধরে হেফাজতের মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ, ভিডিওচিত্র, আলোকচিত্র, নথিপত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে তদন্ত শেষ করেছে তদন্তকারী সংস্থা। এখন কেবল আইনি ও কারিগরি যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের অপেক্ষা।
হেফাজতের এই মামলায় কারা আসামি হতে পারেন- এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মামলার প্রধান আসামি শেখ হাসিনা। এ ছাড়া, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দীন খান আলমগীর, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার বেনজীর আহমেদ, ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশীদ (ডিবি হারুন), তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, কয়েকটি বাহিনীর সাবেক প্রধান এবং সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবুসহ কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তারাও আসামি হতে পারেন। তবে তদন্ত প্রতিবেদন ও আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিলের আগে সম্ভাব্য আসামিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
