সাংবিধানিক পদে বসে কোনও পদাধিকারী ধর্ম, বর্ণ, ভাষা বা অঞ্চলের ভিত্তিতে কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে আক্রমণ করতে পারেন না। তাতে সংবিধান লঙ্ঘিত হয়। সাংবিধানিক পদাধিকারীদের একথা স্মরণ করিয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঞা তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, সরকারি পদে আসীন ব্যক্তি হোন বা সাধারণ মানুষ, কেউ-ই কোনও বক্তৃতা, মিম, কার্টুন বা ভিজ়্যুয়াল আর্টের মাধ্যমেভূঞা কোনও সম্প্রদায়কে অপমান করতে পারেন না।
বিচারপতি ভূঞা তার রায়ে বলেছেন, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা বা অঞ্চলের ভিত্তিতে কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে আক্রমণ করলে সংবিধান লঙ্ঘন করা হয়। তা তিনি যে-ই হোন না কেন। বিশেষ করে কোনও উচু সাংবিধানিক পদে বসে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি করে প্রযোজ্য। কারণ তাঁরা সংবিধানকে রক্ষা করার শপথ নিয়েছেন।
নীরজ পাণ্ডে পরিচালিত একটি চলচ্চিত্রের নাম ঘিরে সম্প্রতি বিতর্ক তৈরি হয়। ওই চলচ্চিত্রের নাম একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের প্রতি অপমানজনক বলে অভিযোগ জানিয়ে মামলা হয় সুপ্রিম কোর্টে। চলচ্চিত্র নির্মাতা ইতিমধ্যে সেই নাম পরিবর্তনের জন্য রাজি হয়েছে। ফলে মামলাটিরও নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। বুধবার ওই মামলার রায় প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ওই মামলায় বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঞা এক পৃথক রায়ে তার পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন।
বিচারপতি ভূঞা তার রায়ে দেশবাসীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ এবং দেশের ঐক্যের কথা উল্লেখ করেন। বিচারপতি বলেছেন, ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলা এবং জাতি, ধর্ম বা ভাষা নির্বিশেষে সকল সহ-নাগরিককে সম্মান করাই সাংবিধানিক ধর্ম। আমাদের প্রত্যেকের এটি অনুসরণ করা উচিত।
