সাবেক মন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার বিরুদ্ধে মামলা

মালয়েশিয়ার হাইকোর্টে বেস্টিনেট–আমিনুলের ‘গ্যাগ অর্ডার’ আবেদন খারিজ

ফন্ট সাইজ:

মালয়েশিয়ার হাইকোর্ট মাইগ্র্যান্ট শ্রমিক কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন নিয়ে গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রদান বন্ধে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে করা বেস্টিনেট এসডিএন বিএইচডি ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমিনুল ইসলাম আবদুল নূর-এর আবেদন খারিজ করেছেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইট টাইমস, মালয়েশিয়াকিনি ও দি এজ মালয়েশিয়া সহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিচারপতি রোসলান মাত নূর একতরফা আবেদনের শুনানি শেষে রায়ে উল্লেখ করেন, মানহানির মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত সীমিত পরিসরে এবং সুস্পষ্ট ক্ষেত্রে দেওয়া যায়। যেখানে অভিযুক্ত বক্তব্য স্পষ্টতই অসত্য এবং ন্যায্যতা, বিশেষাধিকার বা ‘ফেয়ার কমেন্ট’-এর মতো কোনো প্রতিরক্ষা টিকবে না—শুধুমাত্র সেসব ক্ষেত্রেই এমন আদেশ দেওয়া যেতে পারে।

উল্লেখ্য যে, বেস্টিনেট ও আমিনুল ১০ জন বিবাদীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। বিবাদীদের মধ্যে রয়েছে ব্লুমবার্গ এলপি, ব্লুমবার্গ (মালয়েশিয়া) এসডিএন বিএইচডি, দ্য এজ কমিউনিকেশনস এসডিএন বিএইচডি, এমকিনি (মালয়েশিয়াকিনি) ডটকম এসডিএন বিএইচডি, হারাপান মিডিয়া এন্টারপ্রাইজ, আইনজীবী-অ্যাকটিভিস্ট লতিফা কোয়া, সাবেক মন্ত্রী রফিজি রামলি এবং অ্যাকটিভিস্ট ইসওয়ার্দি মরনি।

মামলার সূত্রপাত ২৩ জানুয়ারি প্রকাশিত ব্লুমবার্গের “Everyone Gets a Cut, And Migrant Workers Pay the Price” শীর্ষক প্রতিবেদনের পর। ওই প্রতিবেদনে বেস্টিনেট ও আমিনুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর সিন্ডিকেট ফি আরোপ এবং নিয়োগ ব্যবস্থায় শোষণের অভিযোগের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে উপ-প্রধানমন্ত্রী ড. আহমদ জাহিদ হামিদি-এর নামও আসে।

বাদীপক্ষ দাবি করে, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন ও মন্তব্যগুলো মানহানিকর, অসত্য এবং তাদের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তারা সাধারণ, বর্ধিত ও দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। পাশাপাশি প্রথম বিবাদীর বিরুদ্ধে ৫ লাখ রিঙ্গিত বিশেষ ক্ষতিপূরণ এবং প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন জানানো হয়।

দেশটির মিডিয়াগুলো লিখেছে, রায়ে বিচারপতি রোসলান বলেন, মানহানির মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারির ক্ষেত্রে আদালতকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়, কারণ এতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন জড়িত। তিনি আরও বলেন, মতপ্রকাশের অধিকার জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বেআইনি কাজ না হলে তা বাধাগ্রস্ত করা উচিত নয়।

আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, অভিযুক্ত বক্তব্যগুলো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট—বিশেষত মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে। এ অবস্থায় অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দিলে বিবাদীরা জনস্বার্থের বিষয়ে মত প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হতেন, যা তাদের সাংবিধানিক অধিকারকে প্রভাবিত করতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন