কুমিল্লার দেবিদ্বারে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মাদ্রাসাছাত্রী (১৫)কে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি করাতে না পেরে অটোরিকশাযোগে সড়ক থেকে তুলে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ঘটনায় বুধবার দুপুরে ভিকটিম কিশোরীর মা’ বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় সবুজ ও ইসমাইল নামে ২ যুবককে অভিযুক্ত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে তিন লাখ টাকার বিনিময়ে আপসের চেষ্টা করা হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার (৪ঠা জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টায়, দেবিদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামে। ঘটনার পর বিষয়টি গোপন রেখে দালালের মাধ্যমে ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে ভিকটিমের দাদির সঙ্গে ঘটনার মীমাংসার উদ্যোগ নেয়া হয়।
পুলিশ জানায়, ওই ঘটনা মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে ভিকটিমের বাবা, মা ঢাকা থেকে এলাকায় আসেন এবং বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বুধবার দুপুরে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তরা হলেন, দেবিদ্বার পৌরএলাকার বারেরা গ্রামের মো. রমিজ মিয়ার ছেলে মো. সবুজ মিয়া (২৪) ও একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো. ইসমাইল (২৯)। উভয়েই প্রবাস থেকে দেশে আসেন এবং তারা দু’জনই সম্পর্কে একে- অপরের খালাতো ভাই।
ভিকটিমের বাবা জানান, গত রোববার বিষয়টি আমার মেয়ে ফোনে জানায়। আমি ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করি। আমার স্ত্রীও তখন ঢাকায় ছিল। সংবাদ পেয়ে গতকাল আমরা বাড়ি আসি। অভিযুক্তরা নারী পাচারকারী। যারা আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি, যা দেখে সমাজ শিক্ষা পায়। দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখি। পরে অভিভাবকদের ডেকে এনে থানায় মামলা দায়ের-পূর্বক ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট ২২ ধারায় ভিক্টিমের জবানবন্দি রেকর্ড করাই। আমরা খুব দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছি।
