দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের শ্রী মহন্তপুর দমনিরঘাট এলাকায় প্রেমিকার আত্মহত্যার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রেমিকের আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতরা হলেন, শ্রী মহন্তপুর দমনিরঘাট এলাকার তাপষ দাসের ছেলে রাহুল (কাকন দাস) (১৮) এবং একই এলাকার পরেশ চন্দ্র দাসের মেয়ে প্রিয়া রানী দাস (১৬)। রাহুল (কাকন দাস) ও প্রিয়া রানী দাস দু’জনই বোচাগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। রাহুল চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর পুনরায় দশম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে আসন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। প্রিয়াও একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। তারও আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা ছিল। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে রাহুল ও প্রিয়ার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
কয়েকদিন আগে বিষয়টি জানাজানি হলে উভয় পরিবার এতে আপত্তি জানায় বলে স্থানীয়রা জানান। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, গত ৭ই জুলাই ভোর রাতে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে প্রিয়া গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে বিকাল সাড়ে ৬টার দিকে তার সৎকার সম্পন্ন করা হয়। এ খবর জানার পর দিনাজপুর সদরের উমারপাই দাসপাড়ায় নানার বাড়িতে অবস্থানরত রাহুল (কাকন দাস) লিচুর গাছে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে স্থানীয়রা জানান।
এ বিষয়ে বোচাগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, প্রিয়ার বাবা থানায় অভিযোগ করেছেন যে, অজ্ঞাত কারণে তার মেয়ে নিজ ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে মারা গেছে। এ ঘটনায় বোচাগঞ্জ থানায় অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। পরে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ গ্রহণের আবেদন করলে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সৎকারের জন্য মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনি আরও বলেন, রাহুল (কাকন দাস)-এর মৃত্যুর ঘটনাটি দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার অধিক্ষেত্রে হওয়ায় এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা বিস্তারিত তথ্য দিতে পারবে।
