ময়মনসিংহের ত্রিশাল-পোড়াবাড়ী আঞ্চলিক সড়কটি কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে একাধিকবার সংস্কার করা হলেও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। সংস্কারের এক বছরের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, খানাখন্দ ও ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে ত্রিশাল, ফুলবাড়িয়া ও টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মানুষের যাতায়াত, মাছ, কৃষিপণ্য ও খাদ্যপণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাড়ে ৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়।
পরে ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনরায় উন্নয়ন ও সংস্কারের কাজ পায় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২৩ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা সম্পন্ন হয়নি। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের শেষ দিকে কাজ শেষ হলেও এক বছরের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে আবারো ভাঙন দেখা দেয়। বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন অংশে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ছোট যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও ভারী যানবাহন প্রায়ই গর্তে আটকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি কয়েকটি স্থানে মালবাহী যানবাহন দুর্ঘটনার কবলেও পড়েছে।
অনেক চালক বাধ্য হয়ে যাত্রী নামিয়ে ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি পার করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণকাজ, তদারকির অভাব এবং ভারী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণেই অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটির বেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ ভূঁইয়া বলেন, প্রতিদিন শত শত মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। বড় বড় গর্তের কারণে চলাচল অত্যন্ত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দ্রুত টেকসই সংস্কার প্রয়োজন।
অটোরিকশাচালক আল আমিন বলেন, প্রতিদিন গর্তে পড়ে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। অতিরিক্ত মেরামত খরচ দিতে হচ্ছে, কিন্তু আয় বাড়ছে না। ট্রাকচালক আনিছ মিয়া বলেন, মাছ ও খাদ্যপণ্য নিয়ে চলাচল করা এখন খুবই কষ্টকর। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো গাড়ি গর্তে আটকে যাচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী যুবরাজ হোসেন জানান, সড়কের যেসব স্থানে ক্ষতি হয়েছে, সেগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
নতুন অর্থবছরে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। ভবিষ্যতে ভারী যানবাহনের চাপ বিবেচনায় রেখে আরও টেকসই নির্মাণ এবং অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
