আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ আইরিন খানকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের পরবর্তী স্থায়ী প্রতিনিধি (পার্মানেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। বর্তমানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উন্নয়ন ও সুরক্ষা বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আইরিন খান। আগামী মাসে তার বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।
৬৯ বছর বয়সী আইরিন খান বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি টানা আট বছর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর মহাসচিব ছিলেন। পরে রোমভিত্তিক আন্তঃসরকারি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল অর্গানাইজেশন (আইডিএলও)-এর মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে আলোকচিত্রী শহিদুল আলম এবং নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার কারণেও তিনি আলোচনায় ছিলেন।
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের সঙ্গে আলোচনা শেষে আইরিন খান এ দায়িত্ব গ্রহণে সম্মতি দেন। বর্তমানে তিনি বিদেশে রয়েছেন। আগামী সপ্তাহে দেশে ফিরে নিয়োগ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘ ব্যবস্থায় আইরিন খানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। গত ছয় বছর তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ল স্কুল থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
এদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান অ্যাপোলোকে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের উপস্থায়ী প্রতিনিধি (ডেপুটি পার্মানেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ) হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
