জয়ের পরও মেসি কেন কাঁদলেন? জানালেন নিজেই

জয়ের পরও মেসি কেন কাঁদলেন? জানালেন নিজেই

ফন্ট সাইজ:

অবিশ্বাস্য এক ম্যাচ জিতে অঝোরে কাঁদলেন লিওনেল মেসি। নিজেও গোল করেছেন। তবে কেন কান্না তার চোখে? এর উত্তর নিজেই দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, সেই কান্না শুধুই আনন্দের ছিল না। এর পেছনে ছিল নিজের ওপর প্রবল ক্ষোভও। বৃটিশ একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে ১১ মিনিট বাকি থাকতে ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর গোলে প্রত্যাবর্তনের সূচনা হয়। পরে সমতাসূচক গোল করেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। শেষ পর্যন্ত নাটকীয়ভাবে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে ম্যাচের চিত্র ভিন্নও হতে পারত। প্রথমার্ধেই ১-১ সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। কিন্তু তিনি পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন।

ম্যাচ শেষে সেই পেনাল্টি মিসের কথাই তুলে ধরে মেসি বলেন, আজ (সোমবার) ম্যাচে যা যা ঘটেছে, বিশেষ করে পেনাল্টি মিস করার পর আমি খুবই হতাশ ও রাগান্বিত ছিলাম। তিনি আরও বলেন, যদি আমি পেনাল্টিটা থেকে গোল করতে পারতাম, তাহলে ম্যাচের গতিপথ বদলে যেত। গোল হজম করলেও আমরা তখন ভালোই খেলছিলাম।
এই পেনাল্টি মিসের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডও গড়েছেন মেসি। তিনি বিশ্বকাপে পর পর দুটি পেনাল্টি মিস করা প্রথম ফুটবলার। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের ১৫০তম পেনাল্টি। এর মধ্যে ৩৪টিতেই গোল করতে পারেননি তিনি। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত হলেও পেনাল্টিতে তার গোল করার হার প্রায় ৭৭ শতাংশ। বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত নেয়া অর্ধেক পেনাল্টিই তিনি মিস করেছেন।

সর্বশেষ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচেও তিনি একটি পেনাল্টি লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন। যদিও সেই ম্যাচে দুটি গোল করেছিলেন মেসি। আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে মেসি পেনাল্টি শটে আবারও গোলরক্ষকের বাম দিকে শট নেন। কিন্তু মিশরের গোলরক্ষক মোস্তাফা শোবেইর সঠিক দিক অনুমান করে দুর্দান্ত সেভ করেন। ম্যাচের শেষদিকে যখন আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল, তখন মনে হচ্ছিল মেসির সেই পেনাল্টি মিসই দলের বিদায়ের কারণ হতে যাচ্ছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সমতাসূচক গোল করে এবং দলের জয়ে বড় ভূমিকা রেখে হাসিমুখেই মাঠ ছাড়েন তিনি। তবে তার আগে ঝরেছে আনন্দের অশ্রু।

মেসি বলেন, এই দলটি এগিয়ে যাওয়ার যোগ্য ছিল। তারা লড়াই চালিয়ে যাওয়ার এবং চেষ্টা করে যাওয়ার যোগ্য ছিল। তিনি আরও বলেন, কুতি (ক্রিস্টিয়ান রোমেরো) গোল করার পরই আমাদের সবার মধ্যে বিশ্বাস জন্মায় যে আমরা ম্যাচে ফিরতে পারব। আমরা সমতা ফিরিয়ে আনতে পেরেছি এবং ৯০ মিনিটের মধ্যেই জয় নিশ্চিত করেছি। অতিরিক্ত সময়েও যেতে হয়নি। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকার সময় পরিস্থিতি খুবই কঠিন ছিল। কিন্তু আমরা ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পেরেছি। শেষে মেসি বলেন, বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে দুই গোলের ঘাটতি থেকে ফিরে আসা মোটেও সহজ নয়। এখানে কেউ আপনাকে বিনা লড়াইয়ে কিছু দেয় না।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন