রাজশাহীতে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে দুদকের ভবন নির্মাণের অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

ব্যক্তিমালিকানাধীন রেকর্ডভুক্ত জমিকে অর্পিত সম্পত্তি (ভিপি) দেখিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এমনকি এ বিষয়ে হাইকোর্টের ৬ মাসের স্থিতিবস্থার (স্ট্যাটাস কো) আদেশ থাকলেও তা অমান্য করে অবৈধভাবে নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগী রাজশাহীর রাজপাড়া থানাধীন চন্ডিপুর এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল ওহাব জানান, তার মৃত মাতা রহিমা খাতুনের নামে চন্ডিপুর মৌজায় ১৫৩৭ একর বসতবাড়ি রয়েছে। যা পরবর্তীতে আর.এস জরিপেও তার মায়ের নামেই শুদ্ধভাবে প্রকাশিত ও রেকর্ড হয়। এস.এ বা আর.এস কোনো খতিয়ানেরই মন্তব্য কলামে এটি ভিপি বা অন্য কোনো সম্পত্তি হিসেবে উল্লেখ নেই। কিন্তু ২০২০ সালের ২২শে জুন রাজশাহী জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, ওই সম্পত্তিটিকে সরকার বা জেলা প্রশাসক ভিপি কেস হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছেন।

ওই জমিটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিভাগীয় ও সমন্বিত জেলা কার্যালয় ভবন নির্মাণের জন্য প্রদান করা হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পর আব্দুল ওহাব জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে সেখানকার কিছু কর্মচারী তাকে খারাপ ব্যবহার করে অফিস থেকে বের করে দেন। এরপর তিনি বোয়ালিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে জমির খাজনা দিতে গেলে তারা তা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। বাধ্য হয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টের সিভিল ডিভিশনে মামলা দায়ের করেন। আদালত এসিল্যান্ডকে (বোয়ালিয়া) খাজনা গ্রহণের নির্দেশ দেন। কিন্তু আদালতের নির্দেশের পর খাজনা দিতে গেলে ২০২৩ সালের ৩১শে মে এসিল্যান্ড তাকে জানান যে, নালিশি জমিটি ইতিমধ্যে দুদকের নামে নামজারি করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে তার আর কিছু করার নেই। পরবর্তীতে নিজের সম্পত্তি রক্ষায় আব্দুল ওহাব হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। শুনানি শেষে মহামান্য হাইকোর্ট নালিশি ওই জমির ওপর ৬ মাসের জন্য স্থিতিবস্থা (স্ট্যাটাস কো) বজায় রাখার আদেশ দেন।

আব্দুল ওহাব অভিযোগ করেন, তার আইনজীবীর মাধ্যমে জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং বোয়ালিয়ার এসিল্যান্ডকে হাইকোর্টের আদেশের বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করা হলেও, তারা তা উপেক্ষা করে সম্পত্তিতে অবৈধভাবে নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছেন। অন্যদিকে, গণপূর্ত বিভাগের (পিডব্লিউডি) প্রধান প্রকৌশলীকে অবগত করা হলে তিনি এ সংক্রান্ত কোনো চিঠি পাননি বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মহিনুল হাসান জানান এ বিষয়ে কোনো আদালতের নির্দেশনা আমাদের কাছে নেই। ইতিমধ্যে জমিটি দুদকের নামে অধিগ্রহণ করা হয়েছে। কেউ যদি আদালতের মাধ্যেমে সেই জমির মালিক প্রমাণ করতে পারে তাদেরকে অধিগ্রহণের অর্থ হস্তান্তর করা হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন