সাভারে এনসিপি’র সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ, দুই কর্মীসহ আহত ৫

সাভারে এনসিপি’র সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ, দুই কর্মীসহ আহত ৫

ফন্ট সাইজ:

সাভারে এনসিপি’র সমাবেশে পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করছেন এনসিপি’র নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ নিয়ে সাভার মডেল থানার সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল থানায় প্রবেশ করে ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইশানের সঙ্গে কথা বলেছেন। আহতরা হলেন- বরিশালের বাকেরগঞ্জের মো. গণি খন্দকারের ছেলে মো. শাহীন খান্দকার (৩০), পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার জামাল উদ্দিনের ছেলে মো. জসিম (২৬) ও সাভারের উসমান গণির ছেলে মো. শাহাদাত হোসেন (৪০), সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওটি সহকারী মো. ইমরান হোসেন। এ ছাড়া বাকিদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ককটেল বিস্ফোরণে আহত সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওটি সহকারী মো. ইমরান হোসেন বলেন, আমি ও আমার আঙ্কেল বসে বক্তব্য শুনছিলাম- হঠাৎ করে বিকট শব্দ হলে আমি দৌড় দেই। পরবর্তীতে দেখি আমার পা জ্বলছে এবং রক্ত বের হচ্ছে। এনসিপি’র জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সাজেদুর রহমান বলেন, আমি চারজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। রক্তমাখা জুতাটিও আমি উদ্ধার করেছি। এ ঘটনায় আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানান তিনি। পুলিশের সঙ্গে আলোচনা শেষে থানা প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ঘটনায় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হবে। এবং দ্রুত ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত রয়েছে তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে পুলিশ আমাদের কথা দিয়েছে। তারা বলেছে তাদের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হয়েছে নিরাপত্তার প্রদানের জন্য।

ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও তারা নিরাপত্তা প্রদান করতে না পারায় ব্যার্থতার কথা শিকার করেছেন। থানা থেকে বের হয়ে আহতদের দেখতে নেতাকর্মীরা সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছে। এর আগে সন্ধ্যা ছয়টায় জুলাই পদযাত্রা অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এনসিপি’র নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে পৌঁছান রাত সাড়ে নয়টায়। পরবর্তীতে বক্তব্য চলাকালীন পৌনে দশটার দিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা জেলার আহ্বায়ক এবং জুলাই পদযাত্রা ও পরবর্তী সমাবেশের আজকের অনুষ্ঠানের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দেয়ার সময় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও পরবর্তী সমাবেশে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, এখানে আমাদের পূর্ব ঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও পরবর্তী সমাবেশে যোগ দেয়ার পর পরই পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেয়া হয়।

পরবর্তীতে আমাদের হত্যার উদ্দেশ্যে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাই। এখানে পুলিশের সহযোগিতায় দুর্বৃত্তরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছ। পুলিশের ব্যর্থতা রয়েছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখতে হবে। অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ও জাতির সঙ্গে গাদ্দারি করেছে। তার মতে, সরকার গণভোটের রায় এবং জুলাই সনদকে অস্বীকার করছে। আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন?সহ এনসিপি’র কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন