গাজীপুর মহানগরীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বড় সাফল্য দেখিয়েছে বলে দাবি করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি)। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত গত ছয় মাসে জিএমপি’র বিশেষ অভিযানে ৩ হাজার ২১৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সময়ে মহানগরীর বিভিন্ন থানায় মামলা রুজু হয়েছে ১ হাজার ৪৫৪টি। মঙ্গলবার দুপুরে অপরাধ পরিসংখ্যান এবং সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত বিশেষ প্রেস ব্রিফিং এ এই তথ্য তুলে ধরেন জিএমপি কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার। ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, গত ৬ মাসে জিএমপিতে ১ হাজার ৪৫৪টি মামলা রুজু করা হয়েছে।
এর মধ্যে হত্যা ও ডাকাতি মামলা ২০টি, ৭টি ডাকাতি ও ২৮টি ছিনতাই মামলা। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ও নারী ও শিশু সুরক্ষায় বিশেষ জোর দিয়ে ১৭৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ব্রিফিংয়ে তিনি আরও জানান, বিভিন্ন অভিযান ও মামলা দায়ের করার পাশাপাশি পুলিশ মোট ৩ হাজার ২১৭ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছেন। এসব আসামির মধ্যে ৪৬ জন ছিনতাইকারী, ২৩ জন ডাকাত এবং ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৩৫৪ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এ ছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে ৯৮৮ জন মাদক ব্যবসায়ী এবং ৯০১ জন মাদক সেবনকারীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে অভিযান চালিয়ে ৫১ হাজার ৫৬০ পিস ইয়াবা, ৩৫৭ কেজি গাঁজা, ১ কেজি ৯৬৫ গ্রাম হেরোইন, ৫৩০ পিস প্যাথিডিন এবং ৪৬ লিটার দেশীয় মদসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের পর মাদক সংক্রান্ত ৮১২টি এবং অস্ত্র সংক্রান্ত ৬০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ ছাড়াও অপরাধ দমনের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে জিএমপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। গত ৬ মাসে ১০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ২০ রাউন্ড গুলি, ৪টি ম্যাগাজিন এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। গত ২১শে জুন এবং ৩রা জুলাই মহানগরীর পৃথক স্থানে ঝটিকা মিছিল ও পুলিশের ওপর হুমকির ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এসব ঘটনায় জড়িত ১৫ জনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং শতাধিক নাশকতাকারীকে শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেনÑ অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. তাহেরুল হক চৌহান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) মো. বেলায়েত হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনারগণ।
