গাজীপুরের শ্রীপুরে কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড পোশাক কারখানার অর্ধশতাধিক শ্রমিক হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। কারখানার পঞ্চম তলায় সুইং সেকশনের এক নারী শ্রমিক মাথা ঘুরিয়ে উৎপাদন ফ্লোরে পড়ে যায়। এ সময় একে একে আরও কয়েকজন বমি শুরু করে এবং মাথা ঘুরিয়ে পড়ে গেলে কর্মরত শ্রমিকদের মাঝে আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়ে। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যবস্থাপনায় শ্রমিকদের হাসপাতালে পাঠায়। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি গ্রামের কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার খবরে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা কারখানার প্রধান ফটকে উপস্থিত হয়। এ সময় সাংবাদিকরা ভিডিও করার সময় প্রশাসন বিভাগের লোকজন দৈনিক বসুন্ধরা পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধির মুঠোফোন কেড়ে নেয়। কারখানা কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে।
কারখানার শ্রমিকরা জানান, কারখানার পঞ্চম তলার নারী শ্রমিক লিজা বেগম (৩৬) মৃত্যুর ঘটনায় গত ২৫শে জুন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত শ্রমিকরা কারখানা অভ্যন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করে। আজ একই ফ্লোরে নারী শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে কি কারণে শ্রমিকরা অসুস্থ হচ্ছে তা কেউ বলতে পারেনি। শ্রমিকরা আরও বলেন, হঠাৎ তাদের এক নারী সহকর্মী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে একে একে অন্যান্য শ্রমিকদেরও বমি করাসহ মাথা ঘোরানো শুরু হয়। অনেকে চিৎকার শুরু করলে কারখানার অন্যান্য শ্রমিকরা ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত ফ্লোর থেকে নিচে অ্যাসেম্বলি পয়েন্টে গিয়ে অবস্থান নেয়।
এ সময় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে অনেক শ্রমিক আঘাত পেয়ে আহত হয়। দৈনিক বসুন্ধরা পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি আশিকুর রহমান সবুজ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে কারখানার সামনে গিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করার সময় কারখানা কর্তৃপক্ষ আমার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড পোশাক কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার দে বলেন, অসুস্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারখানার ব্যবস্থাপনায় মাওনা চৌরাস্তা আলহেরা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ভুল বুঝে সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে নেয়া হয়েছিল।
কিছুক্ষণ পর ওই সাংবাদিকের মুঠোফান ফেরত দেয়া হয়েছে। আজকে জন্য কারখানা ছুটি দেয়া হয়েছে কিনা এ প্রশ্নে তিনি বলেন আমাদের পক্ষ থেকে ছুটি দেয়া হয়নি। শ্রমিকরা তাদের মতো করে নিজে থেকেই কারখানা থেকে বের হয়ে গেছে। মাওনা চৌরাস্তা আলহেরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ডা. আবুল হোসাইন বলেন, হাসপাতালে অর্ধশতাধিক শ্রমিককে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অসুস্থ শ্রমিকদের মধ্যে পেটে ব্যথা, বমি ও মাথা ঘুরানোর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী শ্রমিক। শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে শ্রমিকদের সব ধরনের চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
