২৬ চেকে ৫১ লাখ টাকা জালিয়াতি, ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের ৩ কর্মচারী কারাগারে ২৬ চেকে ৫১ লাখ টাকা জালিয়াতি, ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের ৩ কর্মচারী কারাগারে

ফন্ট সাইজ:

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের ২৬টি চেকের টাকার অঙ্ক ও বানান জালিয়াতি করে প্রায় ৫১ লাখ টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। সরকারি অর্থ আত্মসাতের এই অভিযোগে উপজেলা পরিষদের বর্তমান ও সাবেক তিন কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে তাদের মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলোÑ উপজেলা পরিষদের সাবেক সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পার্থ সারথী পাল (বর্তমানে ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদে কর্মরত), বর্তমান অফিস সহায়ক মো. ফিরোজ ও নূর ইসলাম। এদের মধ্যে পার্থ সারথীর বাড়ি ফুলগাজীর ফতেহপুর গ্রামে, নূর ইসলামের বাড়ি উত্তর বরইয়া গ্রামে ও মো. ফিরোজের বাড়ি পরশুরাম উপজেলার গুথুমা গ্রামে।

পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বদলিজনিত কারণে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ফাহরিয়া ইসলাম। বিদায়ের প্রাক্কালে তিনি উন্নয়ন প্রকল্পের সার্বিক হিসাবনিকাশ পর্যালোচনা করতে যান। এ সময় চেকবইয়ের কাউন্টারফয়েল (মুড়ি অংশ) এবং ব্যাংক থেকে উত্তোলিত অর্থের হিসাবের মধ্যে বড় ধরনের গরমিল ও অসঙ্গতি তার নজরে আসে। পরবর্তীতে গভীরভাবে যাচাই বাছাই করতে গিয়ে দেখা যায়, মোট ২৬টি চেকে টাকার অঙ্ক ও বানান পরিবর্তন করে ব্যাংক থেকে সুকৌশলে প্রায় ৫১ লাখ টাকা তুলে নেয়া হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জালিয়াতির এই চক্রটি গত প্রায় এক বছর ধরে একই কৌশলে সরকারি অর্থ লোপাট করে আসছিল।

সাধারণত ইউএনও’র কাছ থেকে চেকে বৈধ স্বাক্ষর নেয়ার পর, মূল অঙ্কের আগে অতিরিক্ত সংখ্যা বসিয়ে টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে দিতো তারা। একইসঙ্গে চেকে টাকার বানানের অংশেও নিখুঁতভাবে পরিবর্তন করা হতো। তবে চেকবইয়ের ভেতরের মুড়ি অংশে (কাউন্টারফয়েল) আসল হিসাবটিই লিখে রাখা হতো যাতে তাৎক্ষণিকভাবে কারও সন্দেহ না হয়। চলতি বছরের ১লা মার্চ সর্বশেষ এভাবে টাকা তোলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর পর মার্চ মাসেই মূল অভিযুক্ত পার্থ সারথী পাল ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদে বদলি হয়ে গেলে এই জালিয়াতি সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সোমবার ইউএনও ফাহরিয়া ইসলাম অভিযুক্ত তিন কর্মচারীকে তার কার্যালয়ে ডেকে পাঠান। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ফুলগাজী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় উপজেলা পরিষদের স্টেনোটাইপিস্ট কাম-কম্পিউটার অপারেটর আবদুল হালিম চৌধুরী সুজন বাদী হয়ে থানায় একটি জালিয়াতির মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এ বিষয়ে জানতে ফেনীর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. দিদারুল আলম ও বিদায়ী ইউএনও ফাহরিয়া ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ফুলগাজী থানার ওসি এস এম মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধের বিষয়টি স্বীকার করেছে। জালিয়াতি সংক্রান্ত ব্যাংকের নথিপত্র ও চেকগুলো আমরা নিবিড়ভাবে যাচাই করছি। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন