অপরাধীদের অভয়ারণ্য বন্দর

এক মাসে ১১ লাশ, ৭ ধর্ষণ, চুরি-ছিনতাইসহ নানা ঘটনায় আতঙ্ক

ফন্ট সাইজ:

গত জুন মাসে নারায়ণগঞ্জ বন্দরে ৭টি হত্যাকাণ্ডসহ মোট ১১ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ছাড়াও ৭টি ধর্ষণ, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও কিশোর গ্যাং গ্রুপের উৎপাতসহ প্রায় দেড়শতাধিক অপরাধ কর্মকাণ্ডে এক আতঙ্কের নগরিতে পরিণত হয়েছে বন্দর থানা এলাকা। এ থানার আওতাধীন ৫টি ইউনিয়ন ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৯টি ওয়ার্ড। বন্দরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি। প্রতিদিন এসব অপরাধ কর্মকাণ্ডে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ব্যবসায়ীসহ নানা পেশার মানুষ। সূত্র মতে, গত ১লা জুন নাসিক ২৪নং ওয়ার্ড নবীগঞ্জ কদমরসুল ঘাট সংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদী থেকে এক অজ্ঞাত যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

৭ই জুন ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন গার্মেন্ট শ্রমিক মো. জুবায়ের (১৮)। তিনি কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এনায়েতনগর ভাঙা ব্রিজে পৌঁছালে একদল ছিনতাইকারী পথরোধ করে ছুরিকাঘাত করে। চারদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার কারণে এক পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) কে প্রত্যাহার করা হয়। ৯ই জুন মুছাপুর ইউপি’র বারপাড়া বাগানবাড়ি এলাকা থেকে সজীব (২৫) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সজীব ওই এলাকার নাজির হোসেনের ছেলে। ১৭ই জুন পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রী সাথী (৩৮) কে জবাই করে হত্যা করে স্বামী। ২০শে জুন বন্দর রূপালী এলাকার শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৭ বছরের শিশু হাসানের লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত হাসান রূপালী আবাসিক এলাকার শহীদুল্লাহ ছেলে। এ ছাড়া ২৬শে জুন মুছাপুর ইউপি’র সদস্য আনোয়ার হোসেন ও তার ভাগিনা মো. আলীর মারধরে ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেন নিহত হন। চলতি মাসের ৪ঠা জুলাই নাসিক ২৬নং ওয়ার্ড বন্দরের ঢাকেশ্বরী এলাকার ডোবা থেকে নিখোঁজ মাসুম রানা নামের এক অটোরিকশা চালকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গত ৬ই জুলাই সন্ধ্যায় একরামপুর সিএসডি গেট এলাকা থেকে হাত বাঁধা অবস্থায় সৈয়দ হোসেন পিয়াল (২৪) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত পিয়াল একরামপুর এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে। ৬ই জুলাই বিকালে বন্দর আমিরাবাদ পূর্বপাড়া এলাকায় আলম হোসেন (৩০) নামে এক যুবক বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত হয়েছেন। নিহত আলম হোসেন নাসিক ২৪নং ওয়ার্ড আমিরাবাদ এলাকার মৃত আশকর মিয়ার ছেলে। এদিকে গত ২রা জুলাই ভোররাতে হরিপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে দায়িত্বরত দুই আনসার সদস্যের ২টি শটগান লুটে নিয়েছে মুখোশধারী সংঘবদ্ধ ডাকাত দল।

গত ২৯শে জুন ভোররাতে মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়কে তালতলা এলাকায় ডাকাতি প্রস্তুতিকালে পুলিশের সঙ্গে ডাকাত দলের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীরা জানান, পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকায় প্রত্যেক এলাকায় দিন দিন বেরে যাচ্ছে মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত এবং রাতে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি। অপরাধ কর্মকাণ্ড বেরে যাওয়ায় আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) দীপংকর ঘোষ জানান, অপরাধ দমনে পুলিশ সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সকল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন