দুইদিন ধরে টানা ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় মাতামুহুরী নদীর পানি হু-হু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে কক্সবাজারের চকরিয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে দুই উপজেলার অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকায় বসবাসকারী অন্তত ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে বেশ কিছু গ্রামীণ সড়ক। সড়ক ও বসতবাড়িতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি বৃদ্ধি পেলেও গত সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিপদসীমা অতিক্রম করেনি।
টানা ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় দুই উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী বাসিন্দাদের পাহাড় ধসের আশঙ্কা থাকায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে। সরজমিন দেখা যায়, ভারী বর্ষণের কারণে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী, কৈয়ারবিল, কাঁকারা, চিরিংগা, ফাঁসিয়াখালী, মানিকপুর-সুরাজপুর ইউনিয়ন ও মাতামুহুরীর পূর্ব বড় ভেওলা, সাহারবিল, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে। টানা ভারী বৃষ্টি বর্ষণের ফলে মাতামুহুরী নদীতে উজানের ঢলের পানি প্রবাহিত হওয়ায় যেকোনো সময় ভয়াবহ বন্যা আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, ভারী বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
সার্বিক পরিস্থিতি তদারকির জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ২৬৭ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী আরও দু’দিন ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
