কাতার গিয়ে ঘুমের মধ্যেই মারা গেলেন তালার আবু বক্কর

ফন্ট সাইজ:

পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে জীবিকার সন্ধানে কাতারে পাড়ি জমিয়েছিলেন সাতক্ষীরার তালা উপজেলার যুবক আবু বক্কর শেখ (৩০)। কিন্তু সেই প্রবাস জীবনই শেষ হলো নাড়ির টান থেকে হাজার মাইল দূরে। ঘুমের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহত আবু বক্কর শেখ তালা সদর ইউনিয়নের ডাঙ্গানলতা গ্রামের আব্দুল জব্বার শেখের ছেলে। তিনি প্রায় এক বছর এক মাস আগে বৃদ্ধ বাবা-মা, এক ভাই, স্ত্রী সুমাইয়া খাতুন এবং পাঁচ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে মোহাম্মদ ওমর ফারুক শেখকে রেখে জীবিকার তাগিদে কাতারে যান।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে আবু বক্কর স্ত্রী সুমাইয়া খাতুনকে মোবাইল ফোনে কল করেছিলেন। সে সময় স্ত্রী ঘুমিয়ে থাকায় ফোনটি ধরতে পারেননি। প্রায় ১০ মিনিট পর ঘুম থেকে জেগে তিনি স্বামীকে কলব্যাক করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তখন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় আর যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। পরদিন সকাল ৭টার দিকে বিদ্যুৎ ফিরে এলে তিনি আবার স্বামীর নম্বরে একাধিকবার ফোন করেন। তবে কোনো সাড়া মেলেনি। পরে সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে কাতারে আবু বক্করের সঙ্গে একই কক্ষে থাকা সহকর্মীরা ঘুম থেকে না ওঠায় তাকে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে পরীক্ষা করে দেখেন, তিনি ঘুমের মধ্যেই মারা গেছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি হৃদরোগে (স্ট্রোক) আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে জানা যাবে।

জানা গেছে, কাতার পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ হেফাজতে রেখেছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মরদেহ দেশে পৌঁছানোর নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানানো হয়নি। এদিকে প্রবাসে আবু বক্করের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে তার বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী, ছোট্ট সন্তানসহ স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তার স্বজনরা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন