দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে বর্তমানে সাড়ে ৫ লাখের বেশি দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগ মিলিয়ে বর্তমানে মোট বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৫ লাখ ৬১ হাজার ৪৪টি। এর মধ্যে গত ১ বছরে দুই বিভাগ মিলিয়ে মোট ৬৩ হাজার ৩০৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. গোলাম রছুল এর করা প্রশ্নে আইনমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে চলতি বছরের ৩১শে মার্চ পর্যন্ত ২১ হাজার ৬৫২টি দেওয়ানি ও ১৭ হাজার ৬১টি ফৌজদারি মামলাসহ সর্বমোট ৩৮ হাজার ৭১৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অন্যদিকে, হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে ৫ লাখ ২২ হাজার ৩৩১টি মামলা, যার মধ্যে দেওয়ানি মামলার সংখ্যা ১ লাখ ১ হাজার ১৬৮টি এবং ফৌজদারি মামলার সংখ্যা ৪ লাখ ২১ হাজার ১৬৩টি। বিগত ২০২৫ সালে আপিল বিভাগে ৭ হাজার ৫৫৩টি এবং হাইকোর্ট বিভাগে ৫৫ হাজার ৭৫৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। মন্ত্রী জানান, দেশের সব অধস্তন আদালতে গত ৩১শে মার্চ পর্যন্ত মোট ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩২টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যার মধ্যে ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৪৪৩টি দেওয়ানি এবং ২৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯৮৯টি ফৌজদারি মামলা।
তবে অধস্তন আদালতে মামলার নিষ্পত্তির হার কিছুটা ইতিবাচক, যেখানে গত এক বছরে ২ লাখ ৭৫ হাজার ৮৪টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে দেওয়ানি মামলা ৪৯ হাজার ৭৩টি এবং ফৌজদারি মামলা ২ লাখ ২৬ হাজার ১১টি। তিনি আরও জানান, সারা দেশের আদালতসমূহে এই বিপুল পরিমাণ মামলার জট কমাতে ও নিষ্পত্তি দ্রুততর করতে সরকারের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। বিচার ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ৫৩৬টি বিচারকের পদ সৃজন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি নতুন করে ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগসহ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে আদালতের সহায়ক কর্মচারী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এ ছাড়া সরকার সম্প্রতি ৬৫০টি সিভিল জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, ৪০৬টি যুগ্ম দায়রা জজ আদালত এবং ২০৪টি অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত প্রতিষ্ঠা করেছে। এসব নবপ্রতিষ্ঠিত আদালতের বিপরীতে নতুন বিচারকের পদ সৃষ্টির বিষয়টি বর্তমানে সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে, যা সম্পন্ন হলে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
