টানা দুই-তিনদিনের ভারী বর্ষণ ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে বৈরী আবহাওয়ায় গভীর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার একটি ট্রলার ডুবে যাওয়ায় ১১ জন জেলের মধ্যে ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এখনো ৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
একইদিনে উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নে বজ্রপাতে ৪টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, পানপট্টি ইউনিয়নের খরিদা গ্রামের ইমাদুল সিকদারের মালিকানাধীন একটি মাছ ধরার ট্রলার শনিবার রাতে পানপট্টি লঞ্চঘাট থেকে ১১ জন জেলেকে নিয়ে গভীর সাগরে মাছ ধরতে যায়। রোববার রাত প্রায় ৯টার দিকে বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে ওঠে। তীব্র স্রোত ও বড় বড় ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি ডুবে যায়। বেঁচে ফেরা জেলেরা জানান, ট্রলার ডুবির পর তারা ট্রলারের ভাঙা অংশ ও একটি বয়া আঁকড়ে ধরে প্রায় ছয় ঘণ্টা সাগরে ভাসতে থাকেন। পরে সোমবার রাত ৩টার দিকে একই এলাকার একটি মাছ ধরার ট্রলার তাদের উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন- ইমাদুল সিকদার (৪০), বাইজিদ (৩০), নাজমুল (৩০), রাকিব (২২) ও সজীব (২৫)। আহত বাইজিদকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন পানপট্টি ইউনিয়নের তুলারাম গ্রামের ইমাদুল খাঁ (৪৫), খরিদা গ্রামের হারুন (৬০), গজালিয়া ইউনিয়নের আদানী গ্রামের ফরকান (৪৫), সায়েদ (২০), আল-আমিন (৪০) এবং গলাচিপা সদর ইউনিয়নের পক্ষিয়া গ্রামের আকাশ (২৫)। তাদের উদ্ধারে স্থানীয় জেলে, মাছ ধরার ট্রলার ও প্রশাসনের সমন্বয়ে গভীর সমুদ্রে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে সংবাদ লেখা পর্যন্ত নিখোঁজদের কোনো সন্ধান মেলেনি। স্বজনরা উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। মঙ্গলবার নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের খোঁজখবর নিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক এমপি’র নির্দেশে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মোহাম্মদ ইজাজুল হক এবং প্রতিমন্ত্রীর প্রতিনিধি আবু নাঈমের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধিদল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বাড়িতে যান। তারা স্বজনদের সান্ত্বনা দেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। অন্যদিকে নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় বসতবাড়ি, সড়ক ও কৃষিজমি প্লাবিত হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। নদ-নদী ও বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় উপকূলীয় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। এদিকে উপজেলার ২ নম্বর গোলখালী ইউনিয়নের নলুয়াবাগী এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বজ্রপাতে চারটি গরুর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
