টানা ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার। পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢল ও নদীর পানি বাড়ায় রামু, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অসংখ্য মানুষ। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত এর আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আজও বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে একের পর এক পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে। এতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে।
নিহতদের মধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮ জন, কক্সবাজার শহরে একজন, পেকুয়ায় একজন শিশু এবং মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার সদরের দরিয়ানগরে আরও এক নারী রয়েছেন। এসব ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার পাহাড়ঘেরা এলাকায় নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার সদরের দরিয়ানগর এলাকায় আরেকটি পাহাড় ধসে এক নারীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শিশুসহ আরও চারজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া গত সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খলিফা মুরা আলিম্যার ঝিরি এলাকায় পাহাড় ধসে মো. মিনহাজ উদ্দিন (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সে কলিম উল্লাহর ছেলে। শিশুটির মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢল এবং বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বাড়ায় রামু ও চকরিয়ার অন্তত ১৪টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েকশ’ ঘরবাড়ি। এ ছাড়া কক্সবাজার পৌরসভা, টেকনাফ, উখিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, ঈদগাঁও ও কুতুবদিয়ার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে প্লাবিত হয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। জেলা শহরের, হোটেল-মোটেল জোন, কলাতলী, সুগন্ধা, বাজারঘাটা, কালুর দোকান, তারাবনিয়াছড়া, আলীরজাহাল, বাস টার্মিনাল ও বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকার সড়ক পানিতে তলিয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃষ্টিতে জেলায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে উখিয়া-টেকনাফে। এ দু’ উপজেলায় একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ায় পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে টেকনাফের সঙ্গে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। একই কারণে দ্বীপের দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী টেকনাফ এসে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। তাদের পুনরায় পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠিয়েছে জেলা প্রশাসন।
এ ছাড়া পরবর্তী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কোস্ট গার্ডের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশীখালী-কৈয়ারবিল সড়কের একটি জরাজীর্ণ সেতু ধসে পড়েছে। এতে দুই এলাকার মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, পাহাড় ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় কক্সবাজার শহর, রামু, উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা থেকে অন্তত এক হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
প্রতিটি উপজেলায় মাইকিং ও প্রচারণার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হচ্ছে। কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত জেলায় ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এরপর সকাল ৬টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত আরও ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দিনের বাকি সময়েও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পাশাপাশি কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।
