সুনামগঞ্জে মুহূর্তেই নিভে গেল এক পরিবারের তিন প্রাণ

সুনামগঞ্জে মুহূর্তেই নিভে গেল এক পরিবারের তিন প্রাণ

ফন্ট সাইজ:

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার অনন্তপুর গ্রাম যেন এখন শোকের জনপদ। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের বাবা, মা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর পুরো গ্রাম জুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ, আর প্রতিবেশীদের চোখেও অশ্রু। এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় বাকরুদ্ধ এলাকাবাসী। মঙ্গলবার দুপুরে নিহতদের বাড়ির পাশের নতুন বাজারে জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নেন। এ সময় জানাজায় উপস্থিত অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কেউ কেউ স্বজনদের সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করলেও এই অপূরণীয় ক্ষতির বেদনা যেন ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

অননন্তপুর গ্রামবাসীর দাবি, এই দুর্ঘটনার পেছনে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুতের অবহেলা রয়েছে, ট্রান্সফরমারে প্রয়োজনীয় ব্রেকার না থাকায় এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা নিহত পরিবারের জন্য দ্রুত সরকারি আর্থিক সহায়তা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান। সুনামগঞ্জের পল্লী বিদ্যুতের জিএম মিলন কুমার কুণ্ডু বলেন, ছোট ছোট ট্রান্সফরমারে সাধারণত ব্রেকার থাকে না, বড় ট্রান্সফরমারেই ব্রেকার স্থাপন করা হয়। তিনি বলেন, দোকানঘরের কাজ করার সময় মিটারের বোর্ড সরানোর আগে বিদ্যুৎ বিভাগকে জানানো প্রয়োজন ছিল। তবে ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার বিকালে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার অনন্তপুর গ্রামে বসতবাড়ির পাশে একটি দোকানঘর মেরামতের সময় বিদ্যুতের মেইন লাইনের একটি তার ছিঁড়ে টিনের ঘর বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে। প্রথমে ফরহাদ আহমেদ শাহ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ছেলেকে বাঁচাতে ছুটে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন বাবা নুরুল আমিন। পরে তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে মা ফাতেমা বেগমও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ঘটনাস্থলেই তিন জনের মৃত্যু হয়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন