শায়েস্তাগঞ্জে পৌরসভায় উন্নয়ন কাজ পাইয়ে দেয়ার নামে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল জিসানের বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ৪ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নেয়া অর্থ ফেরতের দাবিতে পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এক ঠিকাদার। অভিযোগকারী ঠিকাদার মো. সোহেল মিয়া শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক। সমপ্রতি পৌর প্রশাসকের কাছে দেয়া লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে পৌরসভার ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের জন্য গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি ৫০ লাখ টাকার বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হয়। বরাদ্দের আওতায় তাকে উন্নয়ন কাজ পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল জিসান অগ্রিম ৪ লাখ টাকা গ্রহণ করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অর্থ দেয়ার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তাকে কোনো উন্নয়ন কাজ দেয়া হয়নি। একাধিকবার যোগাযোগ করেও তিনি টাকা ফেরত পাননি। প্রতিবারই বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারী তার আবেদনে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তার কাছ থেকে নেয়া ৪ লাখ টাকা উদ্ধার করে ফেরত দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বেতন, প্রভিডেন্ট ফান্ড কিংবা গ্র্যাচুইটি থেকে ওই অর্থ সমন্বয়েরও অনুরোধ জানান। এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল জিসান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি তাকে এ ধরনের কোনো কথা বলিনি।

তাকে ভুল বুঝিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করানো হয়েছে। আমি এ অভিযোগের প্রতিবাদ করবো। অপরদিকে পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বানী চৌধুরী বলেন, অভিযোগটি আমার যোগদানের আগের সময়ের। তবে অভিযোগকারী এখন পর্যন্ত আমার সঙ্গে দেখা করেননি। তিনি লিখিতভাবে অভিযোগ নিয়ে এলে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করলে আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, নাজমুল পৌরসভায় যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ, বিল উত্তোলন এবং ভবন নির্মাণের অনুমোদনের ক্ষেত্রেও অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এসব বিষয়ে পৃথক কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনও পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন