মেটলাইফের বিষাদ আছড়ে পড়লো টিএসসিতেও

মেটলাইফের বিষাদ আছড়ে পড়লো টিএসসিতেও

ফন্ট সাইজ:

বেজে উঠলো রেফারির শেষ বাঁশি। বাঁশির শব্দের পরই নিউ জার্সির মেটলাইফে ব্রাজিল শিবিরে আছড়ে পড়লো বিষাদ। বিষাদের এই ছোঁয়া এসে লাগলো সাড়ে ১২ হাজার কিলোমিটার দূরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতেও। চোখের কোণে উঁকি দিলো হতাশার কান্না। বিশ্বের কোটি কোটি ব্রাজিল ভক্তদের মতো হতাশায় নিস্তব্ধ হয়ে ওঠে টিএসসি। দলটির আইকনিক ফুটবলার নেইমারের কান্না যখন বড় পর্দায় ভেসে আসছিল। হৃদয় ভাঙার নীরব শব্দ বাজতে থাকলো ভক্তদের কানে। শেষ হলো সেলেসাওদের ২০২৬ বিশ্বকাপের যাত্রা। এবারো পূরণ হলো না সর্বোচ্চ পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হেক্সা মিশন।

পারলো না ব্রাজিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় স্ক্রিনের সামনে খেলা দেখেছেন হাজারো মানুষ। খেলা শুরুর আগে থেকেই টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। রাত হলেও ঘুম নেই চোখে। ব্রাজিলের জার্সি, পতাকা নিয়ে চোখ রাখেন পর্দায়। ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচ ঘিরে গোটা বাংলাদেশের মতো আবেগ, উৎকণ্ঠা আর উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। খেলা শুরুর আগে থেকেই নরওয়ের পোস্টারবয় হালান্দকে নিয়ে ছিল ভীতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল, এফ রহমান হল এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলÑ এই পাঁচটি স্থানে বড় পর্দায় ম্যাচটি সম্প্রচার করা হয়। খেলা শুরুর অনেক আগ থেকেই প্রতিটি ভেন্যুতে শিক্ষার্থী ও ফুটবলপ্রেমীদের ভিড় জমতে থাকে। কেউ বন্ধুদের নিয়ে, কেউ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে, আবার কেউ একাই হাজির হন বিশ্বকাপের উত্তেজনা উপভোগ করতে। অবশ্য আর্জেন্টাইন সমর্থকরা ভিড় করেছিলেন প্রতিপক্ষ ব্রাজিলের পরাজয় দেখতে।

খেলা শুরুর বাঁশি বাজতেই পুরো পরিবেশ যেন ছোট্ট এক স্টেডিয়ামে রূপ নেয়। ব্রাজিলের প্রতিটি আক্রমণে দর্শকদের সম্মিলিত চিৎকার, করতালি আর বাঁশির শব্দে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। এ যেন আরেকটি মেটলাইফ স্টেডিয়াম। নরওয়ে বলের দখল নিলেই শুরু হয় দুয়োধ্বনি, আবার ব্রাজিলের প্রতিটি আক্রমণে শত শত মানুষ একসঙ্গে উঠে দাঁড়িয়ে গোলের অপেক্ষায় থাকেন। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস ও নরওয়ের ডিসেন্স ভাগের দৃঢ়তায় গোলশূন্য শেষ হয়। দ্বিতীয়ার্ধে নামেন ব্রাজিলের নয়নমণি নেইমার জুনিয়র।

পুরো ম্যাচেই কড়া পাহারায় থাকা হালান্দকে রুখতে পারেনি ব্রাজিল। এই হালান্দই দেন দু’টি গোল। কয়েক সেকেন্ড আগেও যে জায়গা ছিল উচ্ছ্বাসে ভরপুর, সেখানে নেমে আসে নীরবতা। অনেক ব্রাজিল সমর্থক মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েন। কেউ হতাশায় দীর্ঘশ্বাস ফেলেন, কেউ আবার বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এখনো অনেক সময় বাকি।’ অন্যদিকে নরওয়ের সমর্থকরা উল্লাসে মেতে ওঠেন। পতাকা উড়িয়ে, একে অপরকে জড়িয়ে ধরে উদ্যাপন করেন গুরুত্বপূর্ণ সেই গোল।
হালান্দের দ্বিতীয় গোল হতেই একসঙ্গে লাফিয়ে ওঠেন শত শত সমর্থক। করতালি, বাঁশি, সেøাগান আর উল্লাসে কয়েক মুহূর্তের জন্য পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। কেউ মোবাইল ফোনে সেই মুহূর্ত ধারণ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। নরওয়ের সমর্থকদের আনন্দের বিপরীতে ব্রাজিল সমর্থকদের মুখে নেমে আসে হতাশার ছাপ। শেষ বাঁশি বাজতেই কেউ চুপচাপ পতাকা কাঁধে নিয়ে মাঠ ছাড়েন, কেউ আবার বন্ধুদের সঙ্গে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো নিয়ে আলোচনা করতে থাকেন। হারলেও অধিকাংশ সমর্থকের কণ্ঠে ছিল প্রিয় দলের প্রতি অটুট সমর্থনের প্রতিশ্রুতি।

ব্রাজিল সমর্থক মাহমুদ হাসান বলেন, রাত তিনটা থেকেই বন্ধুদের সঙ্গে টিএসসিতে ছিলাম। প্রথমার্ধে কিছু সুযোগ নষ্ট হওয়ার পর থেকেই একটু দুশ্চিন্তা হচ্ছিল। তারপরও শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস ছিল দল ফিরবে। হারটা কষ্টের। ম্যাচ চলাকালে দর্শকদের মধ্যে ছিল উৎসবের আমেজ। কেউ মুখে দলের পতাকার রং এঁকে এসেছেন, কেউ জার্সি পরে ছবি তুলেছেন, আবার কেউ খেলার ফাঁকে ফাঁকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি ভিডিও প্রচার করেছেন। প্রতিটি গোল, প্রতিটি আক্রমণ আর প্রতিটি বাঁশির সঙ্গে পাল্টে যায় দর্শকদের আবেগের রং।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন