টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসের শঙ্কা

টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসের শঙ্কা

ফন্ট সাইজ:

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসের আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। নগরের বিভিন্ন পাহাড়ঘেঁষা এলাকায় মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে বাসিন্দাদের। একই সঙ্গে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সব আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাহাড়সংলগ্ন স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোকেও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

গতকাল সকাল থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় মাইকিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এর আগে রোববার রাতেও একই ধরনের সতর্কতামূলক প্রচারণা পরিচালনা করা হয়। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আকবরশাহ ঝিল-১, ২ ও ৩ নম্বর এলাকা, বিজয়নগর পাহাড়, শান্তিনগর পাহাড়, বেলতলীঘোনা পাহাড়, টাংকির পাহাড়, আমিন জুট মিল এলাকা, পাহাড়িকা, সমবায় আবাসিক এলাকা, মিয়ার পাহাড়, মুরাদপুর রেলস্টেশনসংলগ্ন রেলওয়ের পাহাড়, মতিঝর্ণা, লালখান বাজারের পোড়া কলোনি, ঢেবারপাড়, আমবাগান এবং উত্তর হালিশহর উপকূলসংলগ্ন এলাকাসহ পাহাড় ধসপ্রবণ অঞ্চলগুলোতে বিশেষভাবে মাইকিং করে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, পাহাড় ধস মোকাবিলায় প্রশাসন প্রায় দুই মাস আগে থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। মহানগরের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পাঁচটি এলাকাকে পাঁচটি জোনে ভাগ করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটি রোববার রাত থেকেই বৃষ্টির মধ্যেও মাঠে থেকে মাইকিংসহ সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলোতে গিয়ে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এপ্রিল মাস থেকেই প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি করায় সাম্প্রতিক সময়ে কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। মানুষের জানমাল রক্ষায় জেলা প্রশাসনের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। মাইকিংয়ের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তরের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা থেকে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ সুমন সাহা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় পতেঙ্গায় ১২৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। একই সঙ্গে ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগে ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে। চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিটি করপোরেশনের সব বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে জানান, বৃষ্টির সময় প্রকল্প এলাকায় যাতে পানি জমে না থাকে, সে জন্য প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মাইন উদ্দিনকে সার্বক্ষণিক তদারকির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তার নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রাতভর জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল ও পানি চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আবহাওয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পাহাড় ধসপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন