প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মতো নিজের বেতনের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। গতকাল রাজধানীতে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা তিনি। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও তাদের বেতনের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, রোববার একটা মিটিং হয়েছে। একজন প্রধানমন্ত্রী, অনেক বড় প্রশ্ন। একটা দেশের প্রশাসনিক প্রধান ব্যক্তি, উনি আমাদের মিটিংয়ে কী বলেছেন জানেন? খুব বিনয়ের সঙ্গে বলেছেন- মন্ত্রী মহোদয়গণ, আমি একটা কথা বলবো আজকে, বিনয় করে বলা, আপনারা রাখতেও পারেন আমার কথাটা, নাও রাখতে পারেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমি কিন্তু হুবহু কোট করছি- রাখতেও পারেন আমার কথাটা, নাও রাখতে পারেন। তবে আমি অনেক চিন্তা-ভাবনা করে দেখেছি, আপনাদের আমার বলা উচিত, এখন আপনাদের ইচ্ছা! যেটা বলবো, আমি এটা করছি। আমার আব্বা (জিয়াউর রহমান) প্রতি মাসে তার বেতন থেকে ১০ শতাংশ বেতন সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতেন গরিব-মিসকিন মানুষদের সহযোগিতা করার জন্য বা সরকারি কোনো প্রয়োজনে খরচ করার জন্য। আমি কিন্তু বেতন নিচ্ছি, না নিয়ে চলতে পারছি না। আমার বেসিক বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা, ১০ শতাংশ হারে আমি ১১ হাজার ৫০০ টাকা প্রতি মাসে বেতন থেকে জমা দিচ্ছি। বেতন যখন অ্যাকাউন্টে আসে আমি তুলে একটা চেক দিয়ে দেই গভর্নমেন্টের অ্যাকাউন্টে। আমি আপনাদের অনুরোধ করবো, আমার আব্বা কাজটা করতেন, আমি করছি; আপনারাও যদি মনে কিছু না নেন বা যদি আপনাদের পক্ষে সম্ভব হয় আপনারাও প্রতি মাসে ১০ শতাংশ আপনাদের বেতনের টাকাটা সরকারের ঘরে ফেরত দিয়ে দেবেন।
‘আমরা সবাই আলহামদুলিল্লাহ্ বলেছি। খুশি হয়েছি যে, উনি আমাদের কাছে অ্যাপ্রোচটা করেছেন।’ উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
গুলশান লেকের পরিবেশ রক্ষা-সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
রাজধানীর গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের পরিবেশ রক্ষা এবং সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বিকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সভায় তিনি এই সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বলেন, গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের পরিবেশ সুরক্ষা, পানি দূষণ রোধ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবস্থা জানতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠক করেছেন। কীভাবে এই লেকের পরিবেশ সুরক্ষা করা যায়, কীভাবে লেকের পানি দূষণ মুক্ত রাখা যায় এবং একটা সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
এ ছাড়া লেক সংশ্লিষ্ট এলাকার ভবনগুলোর বর্জ্য অপসারণ, পানি দূষণ, নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে গুলশান-বনানী-বারিধারা-নিকেতন এলাকার ভবনগুলোর পয়ঃনিষ্কাশন সংযোগ ব্যবস্থা যাচাই এবং লেকের পানি দূষণমুক্ত রাখা, গুলশান-বনানী-বারিধারা এলাকার বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা এবং লেকের সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং এসব বিষয়ে কার্যক্রমের সর্বশেষের অবস্থা তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে গুলশান-বনানী-বারিধারা-নিকেতন এলাকার পরিবেশ রক্ষায় স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (এসটিপি) স্থাপনের বিষয়টিও আলোচনা হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা লেকের বর্তমান অবস্থার উন্নয়নে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়ার কথাও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। কড়াইল বস্তির বর্জ্য যাতে সরাসরি লেকে না পড়ে, সে জন্য কী কর্মপরিকল্পনা হাতে নেয়া যায়, সে বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইএপিবি’র প্রধান নির্বাহীর সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেস (আইএপিবি)-এর প্রধান নির্বাহী পিটার হল্যান্ড। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাৎ হয়েছে বলে জানিয়েছে তার প্রেস উইং। সাক্ষাতের সময়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এমএ মুহিত উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের চক্ষু-স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, অন্ধত্ব প্রতিরোধ, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা হ্রাস এবং এ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পিটার হল্যান্ড ২০১৮ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী অন্ধত্ব ও দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কাজে এই সংস্থার নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
