খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ জেএসএস গোলাগুলি নিহত ৩

খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ জেএসএস গোলাগুলি নিহত ৩

ফন্ট সাইজ:

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনায় ৩ যুবক নিহত হয়েছেন। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে পুজগাং এলাকার মধুমঙ্গল পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহত যুবকরা পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠন জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-মূল) সাবেক সদস্য ছিলেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, নিহত ওই ৩ যুবক সন্তু লারমা সমর্থিত জেএসএস থেকে দলছুট হয়ে কিছুদিন ধরে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিলেন। সকালে তারা বাড়ি থেকে বের হয়ে স্থানীয় বাজারে যান।

বাজার শেষে টমটমে করে বাড়ি ফেরার পথে মধুমঙ্গল পাড়া এলাকায় আগে থেকে ওত পেতে থাকা প্রতিপক্ষের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছড়ায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পানছড়ি থানার ওসি ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ওসি আরও বলেন, আমরা ৩ জন নিহতের খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তারা ফিরে এলে এবং তদন্ত শেষ হলে ঘটনার বিস্তারিত ও নিহতদের পরিচয় সুনির্দিষ্টভাবে জানা যাবে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে সুনির্দিষ্টভাবে কারা জড়িত, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার জন্য জেএসএস-কে দায়ী করা হলেও, স্থানীয় একাধিক সূত্র অভিযোগের আঙ্গুল তুলছে পাহাড়ের অপর আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) দিকে। সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেএসএস ও ইউপিডিএফসহ পাহাড়ের চারটি আঞ্চলিক সংগঠনের দায়িত্বশীল কোনো নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এদিকে ​নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর পুরো পানছড়ি উপজেলা জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। সড়ক ও এর আশপাশের এলাকাগুলো বর্তমানে সম্পূর্ণ জনশূন্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন